kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

২৪ ঘণ্টা জ্বলছে চুল্লি-চিতা

করোনায় মৃতদের লাশের স্তূপ দিল্লির শ্মশানে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা সংক্রমিত মরদেহ কাঠের চিতায় তুললে ছড়াতে পারে সংক্রমণ। সেই আশঙ্কায় এত দিন শুধু বৈদ্যুতিক চুল্লিতেই দেহ সৎকার চলছিল। তাতে কুলাতে না পেরে সম্প্রতি কাঠের চিতায় দেহ তোলার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে দিল্লির শ্মশান কর্তৃপক্ষ নিগম বোধকে। দিনভর চিতার আগুন ও ধোঁয়ায় চোখে জ্বালা ধরে গেলেও, সব দেহ সৎকার করে উঠতে পারছেন না শ্মশানের কর্মীরা।

জানুয়ারির শেষ থেকে এখন পর্যন্ত নোভেল করোনার প্রকোপে ভারতে ছয় হাজার ৬৪২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু দিল্লিতেই প্রাণ হারিয়েছেন ৭০৮ জন। তবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চললেও কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যাদের মৃত্যু হয়েছে, সব শ্মশানে তাদের দাহ করা যাচ্ছে না। দিল্লির শ্মশান কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য তিনটি শ্মশান এবং দুটি কবরস্থানেই তাদের দাহ করতে হচ্ছে।

তবে শহরের প্রাণকেন্দ্র লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকায়ই যেহেতু অবস্থিত নিগম বোধ শ্মশানঘাটটি, বিভিন্ন হাসপাতালের মর্গ থেকে সেখানেই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মৃতদেহ এসে পোঁছাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ২৪ ঘণ্টা শ্মশান খুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিগম বোধ কর্তৃপক্ষ। ছয়টির মধ্যে তিনটি বৈদ্যুতিক চুল্লি কাজ করছে সেখানে। গত সপ্তাহে কাঠের চিতায়ও করোনায় মৃতদের তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও সব দেহ সৎকার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে। শ্মশান ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সুমন কুমার গুপ্ত জানান, মৃতদেহ নিয়ে শ্মশানে ঢোকার মুখে মৃতের পরিবারের সবাইকে জীবাণুমুক্ত করার প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। সামাজিক দূরত্ব মেনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে অনেকটা সময়ও লেগে যায়। তার জন্য উদ্বেগ নিয়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা শ্মশানে অপেক্ষা করতে হয় তাদের। সুকুমার গুপ্তের কথায়, সবাই চায় চটজলদি সব কিছু মিটিয়ে ফেলতে। কিন্তু এই মুহৃর্তে তিনটি মাত্র বৈদ্যুতিক চুল্লি কাজ করছে। তাই সময় লেগে যায়। হাসপাতাল ও মর্গগুলোতে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় কোনো কোনো সময় একটি অ্যাম্বুল্যান্স চার-পাঁচটি দেহ নিয়ে শ্মশানে হাজির হয় বলেও জানান তিনি। সেই সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় শ্মশানের কর্মীদের। গত দুই মাসে নিগম বোধ শ্মশানে ৫০০-এর বেশি মৃতদেহ দাহ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সুকুমার গুপ্ত। সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক অ্যাম্বুল্যান্সকর্মী জানান, এমনও হয়েছে যে অ্যাম্বুল্যান্সে একাধিক মৃতদেহ নিয়ে শ্মশানে পৌঁছেছেন তিনি। কিন্তু ভিড় থাকায় সঙ্গে সঙ্গে মৃতদেহগুলো দাহ করা যায়নি। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য