kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যু

বিক্ষোভে পুলিশি নির্যাতনের ভিডিও, বাড়ছে ক্ষোভের আগুন

বিক্ষোভকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ বললেন ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিক্ষোভে পুলিশি নির্যাতনের ভিডিও, বাড়ছে ক্ষোভের আগুন

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে সংহতি জানাতে গতকাল লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে জড়ো হয় বিক্ষোভকারীরা। ছবি : এএফপি

পুলিশের নৃশংসতা আর বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সত্ত্বেও অব্যাহত আছে পুলিশের নানা অসদাচরণ। এসংক্রান্ত বেশ কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ছে ক্ষোভ। এর মধ্যেও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান বজায় রেখেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সর্বশেষ তিনি তাঁর সাবেক আইনজীবীর একটি চিঠি টুইটারে শেয়ার করেছেন, যেখানে বিক্ষোভকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিস শহরে গত ২৫ মে পুলিশ হেফাজতে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান আফ্রিকান-আমেরিকান নাগরিক জর্জ ফ্লয়েড। তাঁর ওপর পুলিশের বর্বরতার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে চলছে দেশব্যাপী বিক্ষোভ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৪০টি শহরে কারফিউ জারি করা হয়। বেশ কিছু শহরে এখনো কারফিউ বলবৎ রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও চলছে পুলিশের নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ড, এমনকি হত্যাকাণ্ড। এ ধরনের বেশ কয়েকটি ভিডিও ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এবং সেগুলো সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছে। নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরে ধারণ করা এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কারফিউ কার্যকর করার সময় এক শ্বেতাঙ্গ বৃদ্ধকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় পুলিশ। ৭৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি মাটিতে পড়ে গিয়ে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান এবং তাঁর কান দিয়ে রক্ত বের হয়। তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে চিকিৎসকরা জানান, তাঁর মাথার জখম গুরুতর। এ ঘটনায় জড়িত দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আরেকটি ভিডিওতে নিউ ইয়র্ক শহরে পলায়নপর বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশকে নিপীড়ন করতে দেখা যায়।

এদিকে অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের পুলিশ নিজে থেকেই প্রকাশ করেছে আরেক কৃষ্ণাঙ্গ হত্যাকাণ্ডের বিবরণ। ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের দিনই ওই ঘটনা ঘটে। অ্যারিজোনা পুলিশ জানায়, ফিনিক্স শহরে গত ২৫ মে আফ্রিকান-আমেরিকান নাগরিক ডিওন জনসন এক সেনার গুলিতে মারা যান। পুলিশের পক্ষ থেকে জনসনের হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি আসার আগে অবশ্য ওই হত্যাকাণ্ডের সময়ের একটি অডিও ও পরিবহন বিভাগের ভিডিও নিহতের পরিবারের সদস্যদের হাতে আসে।

এ ছাড়া কারফিউয়ের আওতামুক্ত জরুরি সেবা প্রদানকারীকে গ্রেপ্তার করা, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি, পুলিশের আঘাতে আরেক ব্যক্তির গুরুতর আহত হওয়াসহ বিভিন্ন ঘটনার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে।

নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো পুলিশের ভূমিকার ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দাবি করেন, কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ জনগণকে পেটাচ্ছে, এমন ঘটনা ঘটছে না। পুলিশ যদি এ ধরনের কিছু করে থাকে, তবে ‘সেটা ভুল’। বাফেলোর ঘটনাকে ‘অন্যায় ও অসম্মানজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ কর্মকর্তাদের অবশ্যই আইন প্রয়োগ করতে হবে, নিপীড়ন নয়।’

এ ছাড়া নিউ ইয়র্ক শহরের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ সব রকম পদক্ষেপ নিচ্ছে। জরুরি সেবা খাতের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ভিডিও দেখার পর তিনি নিজে নগর পুলিশের দপ্তরে অভিযোগ করেছেন বলে জানান।

স্থানীয় সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরা পুলিশি নিপীড়নের নিন্দা জানালেও খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিক্ষোভবিরোধী অবস্থানেই আছেন।  সূত্র : বিবিসি, সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা