kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

ট্রাম্পের সমালোচনায় সাবেকরা

যুক্তরাষ্ট্রকে বিভক্ত করছেন ট্রাম্প

বিরোধিতা করছেন বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রীও

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রে শান্তি ফেরানোর পরিবর্তে বিক্ষোভ আরো উসকে দিতে থাকায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সেনা কর্মকর্তারা। পুলিশি হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ মৃত্যুর শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের শান্তিপূর্ণ সমাধান টানার পরিবর্তে ট্রাম্প আমেরিকানদের বিভক্ত করছেন, এমনটা বলছেন তাঁরা।

ট্রাম্পের সমালোচকদের কাতারে থাকা জেমস ম্যাটিস ২০১৮ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর এই প্রথম মুখ খুলেছেন। গত বুধবার রাখঢাক ছাড়াই প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেন তিনি। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমার জীবদ্দশায় ডোনাল্ড ট্রাম্প হচ্ছেন প্রথম প্রেসিডেন্ট, যিনি আমেরিকান জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেননি, এমনকি চেষ্টা করার ভান পর্যন্ত করেননি। তিনি বরং আমাদের বিভক্ত করার চেষ্টা চালিয়েছেন। তিন বছর ধরে উদ্দেশ্যমূলক   চেষ্টার পরিণতি আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি। যোগ্য নেতৃত্ববিহীন তিনটি বছরের পরিণতি আমরা দেখতে পাচ্ছি।’

গত ২৫ মে পুলিশি হেফাজতে ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর থেকে চলমান বিক্ষোভ দমনে ট্রাম্প সেনা মোতায়েনের যে হুমকি দিয়েছেন, সেটার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ম্যাটিসের মতো আরো অনেক সাবেক।

ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে যা ঘটছে, তাতে ম্যাটিস ‘ক্ষুব্ধ ও হতভম্ব’, এমনটা জানিয়ে বিবৃতিতে আরো বলেছেন, বিক্ষোভ চলাকালে আইনভঙ্গের কিছু কিছু ঘটনায় বিভ্রান্ত হওয়া ঠিক হবে না। ‘বিক্ষোভের প্রকৃতি নির্ধারণ করে দিচ্ছে বিবেকবোধসম্পন্ন সেসব হাজার হাজার মানুষ, যারা মানুষ হিসেবে এবং জাতি হিসেবে আমাদের মূল্যবোধের ওপর বেঁচে থাকায় গুরুত্ব দিচ্ছে।’ রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েনের কারণে সেনাবাহিনী ও জনগণের মধ্যে ‘মেকি দ্বন্দ্ব’ সৃষ্টি হয়েছে, এমন মন্তব্যও করেন ম্যাটিস। এর জবাবে ম্যাটিসকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে অতিমূল্যায়িত জেনারেল’ অভিহিত করে টুইটারে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি তাঁর নেতৃত্বের ধরন পছন্দ করতাম না, তাঁর অনেক কিছুই পছন্দ করতাম না, আমার সঙ্গে অনেকেই একমত। খুশি হয়েছি যে সে চলে গেছে!’ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টদের মৌনতার রীতি ভেঙে মন্তব্য করেছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী জিমি কার্টার। গত বুধবার তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা, অধিকার আর নৈতিক বোধসম্পন্ন জনগণকে রুখে দাঁড়িয়ে বলতে হবে, পুলিশ ও বিচারব্যবস্থায় বর্ণবৈষম্য আর নয়, শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে অনৈতিক, অর্থনৈতিক বৈষম্য আর নয়, আমাদের গণতান্ত্রিক ঐক্যবিধ্বংসী সরকারি কর্মকাণ্ড আর নয়।’

ট্রাম্পের সমালোচকদের কাতারে আরো রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন জেনারেল জন অ্যালেন ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের সাবেক চেয়ারম্যান মাইক মুলেন। শুধু সাবেকরাই নন, আছেন বর্তমানরাও। বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বিরোধিতা করেছেন। পেন্টাগনপ্রধান বলেছেন, পরিস্থিতি গুরুতর ও ভয়াবহ হলে তবেই শুধু সেনা মোতায়েন করা যেতে পারে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে এখনো তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। সূত্র : সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা