kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

মুম্বাইয়ের কাছে নিসর্গের আঘাত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুম্বাইয়ের কাছে নিসর্গের আঘাত

নিসর্গের কারণে ঝড়বৃষ্টিতে মুম্বাইয়ের পার্শ্ববর্তী আলীবাগ শহরে বহু গাছপালা ভেঙে পড়ে। ছবি : এএফপি

প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি সময় পর, মুম্বাইসংলগ্ন এলাকায় আছড়ে পড়ল কোনো ঘূর্ণিঝড়। সাইক্লোন নিসর্গ গতকাল বুধবার দুপুরে প্রবল বেগে মহারাষ্ট্র উপকূলে আঘাত হানে। এর ফলে মুম্বাই ও সংলগ্ন এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। এরই মধ্যে থানে, রায়গড়, রত্নগিরি ও সিন্ধুদুর্গ এলাকায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। মুম্বাইয়েও জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট। ভয়ংকর শক্তিশালী ওই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে শুধু মহারাষ্ট্রই নয়, গুজরাট, দমন দিউ এবং দাদরা ও নগর হাভেলিতেও জারি করা হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা।

গতকাল সকাল থেকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সমুদ্রের কাছে এবং উপকূলবর্তী এলাকায় যাতায়াতের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এদিকে নিসর্গের কারণে গতকাল সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বন্ধ ছিল মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিমানের উঠানামা। করোনা রোগীসহ প্রায় এক লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়।

গতকাল সকালে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানায়, গোয়া ও মুম্বাইয়ে ডপলার ওয়েদার রাডারে (ডিআরডাব্লিউ) নিরন্তর মনিটর করা হচ্ছে এ ঘূর্ণিঝড়। হাওয়া অফিস বলেছে, রাডারের মাধ্যমে বোঝা গেছে যে নিসর্গর আই বা চোখ প্রায় ৬৫ কিলোমিটার বিস্তৃত। প্রতি ঘণ্টায় তার ব্যাস কমেছে। যার অর্থ আরো শক্তিশালী হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ। মৌসুম ভবনের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় হাওয়ার গতিবেগ হতে পারে ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এ ছাড়া সাড়ে ছয় ফুট পর্যন্ত উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলেও জানানো হয়েছিল।

ঘূর্ণিঝড় নিসর্গের দাপটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে মুম্বাইসহ গুজরাট, দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন দিউয়ে। ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথে এ দুই রাজ্য ও দুই কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পড়বে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তারা। তাই সেখানে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়ায় জারি হয়েছে ভারি বৃষ্টির সতর্কবার্তা।

মুম্বাই পুলিশ গত মঙ্গলবার রাতে একটি নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, উপকূল বরাবর যাতায়াতের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শুধু মহারাষ্ট্র থেকেই ১৯ হাজার মানুষকে উপকূল এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবারই রাজ্যবাসীকে ঘর থেকে বাইরে না বেরোনোর জন্য আরজি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধভ ঠাকরে। বিমান চলাচলে সতর্কবার্তা জারি করেছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)।

উপকূল বরাবর মহারাষ্ট্র ও গুজরাট দুই রাজ্য মিলিয়ে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনীর মোট ৩০টি দল নামানো হয়েছে। একেকটি দলে রয়েছেন ৪৫ জন। উপকূল এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর কেউ যাতে সমুদ্রের ধারেকাছে না আসতে পারে সে জন্য টহল দিচ্ছেন এ বাহিনীর সদস্যরা। উপকূলরক্ষী বাহিনীর তরফেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে মৎস্যজীবী ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর। সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা