kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

বিতর্কিত ভূখণ্ড নিয়ে নয়া মানচিত্র বিল পেশ নেপাল সংসদে

সমর্থন দেবে বিরোধীরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রকাশিত হয়েছিল আগেই। ভারতের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও নতুন মানচিত্রে সরকারি সিলমোহর দেওয়ার পথে আরো এক ধাপ এগোল নেপাল। দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের আবহেই গতকাল রবিবার নেপালের সংসদে পেশ হলো ‘ম্যাপ আপডেট বিল’। নতুন ম্যাপে ভারত-নেপাল সীমান্তের লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি ও লিপুলেখকে নেপালের অংশ বলে দাবি করা হয়েছে। কূটনৈতিক শিবিরের মতে, জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে বিরোধীরাও এই বিলে সমর্থনের বার্তা দিয়েছে। ফলে বিল পাস হয়ে যাওয়া এখন কার্যত সময়ের অপেক্ষা। আর সেটা হলে অবধারিতভাবেই নয়াদিল্লি-কাঠমাণ্ডু সংঘাত আরো তীব্র হবে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিকদের একাংশ।

বিল পেশ হওয়ার কথা ছিল বুধবার। কিন্তু সংবিধান সংশোধনী বিলে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন দরকার হয়। তাই সব দিক মেপে এগোতে চাইছিল কে পি শর্মা ওলি সরকার। সেই কারণেই বিল পেশের সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শনিবার নেপালের প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের পর ম্যাপ আপডেট বিলকে সমর্থনের বার্তা দেয়। তার পরই রবিবার সংসদের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’-এ এই বিল পেশ করেছেন নেপালের আইনমন্ত্রী শিব মায়া তুম্বাহাম্ফি। নেপালি কংগ্রেসের সমর্থন পাওয়ায় ‘সমাজবাদী জনতা পার্টি নেপাল’ এবং ‘রাষ্ট্রীয় জনতা পার্টি নেপাল’-এর বিরোধিতা সত্ত্বেও বিল পাস করাতে কোনো সমস্যা হবে না বলেই মত কূটনৈতিক শিবিরের। একইভাবে নেপালের সংসদের উচ্চকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতেও পাস হয়ে যাবে এই ম্যাপ আপডেট বিল।

লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি ও লিপুলেখ নিয়ে ভারত-নেপাল বিবাদ দীর্ঘদিনের। ভারতের দাবি, এই তিনটিই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং উত্তরাখণ্ড রাজ্যের পিথোরাগড় জেলার অন্তর্ভুক্ত। উল্টো দিকে নেপালও তাদের অংশ বলে দাবি করে আসছে। কিন্তু সেই বিবাদ চরমে ওঠে সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের গাটিয়াবর্গ থেকে লিপুলেখ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার রাস্তার আনুষ্ঠানিক সূচনা করার পর। নেপাল দাবি করে, এই রাস্তার অংশ নেপালের ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে গেছে। ভারত অবশ্য সেই দাবি উড়িয়ে দেয়।

ওই রাস্তা খুলে যাওয়ার কয়েক দিন পরই নেপালের ভূমি মন্ত্রণালয় ব্যবস্থাপনা দেশের সংশোধিত নতুন ম্যাপ প্রকাশ করে। ম্যাপ প্রকাশের পরেই তীব্র বিরোধিতা করে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়ে দেয়, ‘এই একপাক্ষিক কার্যক্রম ঐতিহাসিক ঘটনা ও প্রমাণসাপেক্ষ নয়। কৃত্রিমভাবে দেশের সীমান্ত এভাবে বাড়িয়ে দেওয়াকে ভারত কোনোভাবেই মেনে নেবে না।’ ম্যাপ আপডেট বিল নেপালের সংসদে পেশের জল্পনার মধ্যেও বৃহস্পতিবার বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেছেন, ‘বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’

নেপাল ও ভারতের মধ্যে এক হাজার ৮০০ কিলোমিটারের খোলা সীমান্ত রয়েছে। ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির ওপর ভিত্তি করে লিপুলেখ পাসের দাবি তুলেছে নেপাল। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা, এনডিটিভি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা