kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

‘হংকংবিরোধী’ নিরাপত্তা আইন পাস করল চীন

কঠোর পদক্ষেপের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘হংকংবিরোধী’ নিরাপত্তা আইন পাস করল চীন

হংকংবাসীর বিক্ষোভ আর যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি বিরোধিতার মধ্যেই গতকাল বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে বিতর্কিত নিরাপত্তা আইন পাস করেছে চীন। এর মধ্য দিয়ে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির স্বাধীনতা খর্ব করা হলো মনে করছেন সমালোচকরা।

হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন জারির ওই বিলের পক্ষে গতকাল চীনের পার্লামেন্টে দুই হাজার ৮৭৮ সদস্য ভোট দেন। স্ট্যান্ডিং কমিটির আনা খসড়া বিলের বিপক্ষে ভোট পড়ে মাত্র একটি। এ ছাড়া ছয় সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন।

বিতকির্ত ওই আইন পাসের পক্ষে চীনের যুক্তি, হংকংয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন, বৈধ সরকার উৎখাতের চেষ্টা, সন্ত্রাসবাদ ও বিদেশি হস্তক্ষেপ রুখতে এ নিরাপত্তা আইন জরুরি। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারীদের কণ্ঠ রোধ করতেই বেইজিং বিতর্কিত আইন জারির পথ বেছে নিয়েছে।

১৯৯৭ সালে ব্রিটেন চীনের কাছে হংকংয়ের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের পর থেকে স্বায়ত্তশাসিত ওই অঞ্চলে নানা কারণে চীনবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। বিতর্কিত প্রত্যাবাসন আইনের বিরুদ্ধে গত বছর টানা কয়েক মাস সরকারবিরোধী আন্দোলন করে হংকংবাসী। এবার জাতীয় নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে নতুন করে উসকে উঠেছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। গত রবিবার ও বুধবার হংকংয়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়, গ্রেপ্তার হয় কয়েক শ মানুষ।

হংকংয়ের ‘বেসিক ল’ তথা খুদে সংবিধানের ২৩ ধারা অনুযায়ী চীন সরকারের বিরুদ্ধে যেকোনো বিদ্রোহ প্রতিহত করতে জাতীয় নিরাপত্তা আইন চালুর বিধান আছে। কিন্তু এতে মানবাধিকার এবং বাক্স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় এ আইন সেখানে কখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা : হংকংয়ে নিরাপত্তা আইন কার্যকরের জেরে মার্কিন আইন অনুযায়ী স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির বিশেষ মর্যাদা খর্ব করা এবং চীনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও কংগ্রেসে বলেন, চীন হংকংয়ের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন খর্ব করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায় শহরটি আর যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে না।

এ ছাড়া মার্কিন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ল্যারি কাডলো গত মঙ্গলবার চীন ‘বড় ধরনের ভুল’ করছে বলে মন্তব্য করার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, হংকং ইস্যুতে চীনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে কাজ করছে মার্কিন প্রশাসন। চলতি সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই এসংক্রান্ত ঘোষণা আসতে চলেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন আইন অনুযায়ী হংকংকে এত দিন ধরে দেওয়া বিশেষ মর্যাদা বাতিল এবং এসংক্রান্ত সুবিধা বাতিল করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প।

এদিকে ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাস মন্তব্য করেছে, ‘হংকংয়ের বিষয়ে বিদেশি রাষ্ট্রগুলো হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করলে আমরাও পাল্টা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’

হংকং ইস্যুতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও আরো কয়েকটি দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা