kalerkantho

বুধবার । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৭  মে ২০২০। ৩ শাওয়াল ১৪৪১

হংকংয়ে বিতর্কিত নিরাপত্তা আইন চালুর পথে চীন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হংকংয়ে চীনবিরোধিতা নিয়ন্ত্রণে সেখানে জাতীয় নিরাপত্তা আইন চালু করতে চায় চীন সরকার। সে লক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার চীনের পার্লামেন্টে এসংক্রান্ত খসড়া আইন উত্থাপন করা হয়। হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থীরা তো বটেই, এর নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও।

হংকংয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ, বিদ্রোহ, সহিংসতা, সন্ত্রাস, বৈদেশিক হস্তক্ষেপসহ স্বাধীনতাপন্থী শক্তির উত্থান ঠেকাতে ওই আইন চালু করতে চায় চীন। আইনটি পাস হলে জাতীয় নিরাপত্তা নামে হংকংয়ে চীনের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হবে। সমালোচকদের অভিমত, এর মধ্যে দিয়ে হংকংয়ের স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গীকার ভঙ্গ করতে যাচ্ছে চীন। তাঁরা আরো মনে করেন, বিতর্কিত ওই আইন প্রণয়নের ব্যাপারে চীন সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, এখন পার্লামেন্টে কেবল আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে। তার পরও এটাই এ বছর চীনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা।

বিতর্কিত প্রত্যাবাসন আইন নিয়ে কয়েক মাস ধরে উত্তাল হংকং। এর মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তার নামে নতুন আইন প্রণয়ন ও কার্যকরের পদক্ষেপে হংকংয়ের পরিস্থিতি আরো অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা। চীনের ওই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থীরা এরই মধ্যে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। তাতে সাড়া দিয়ে এক দল বিক্ষোভকারী গতকাল হংকংয়ে চীনের লিয়াজোঁ অফিসের দিকে যাত্রা করে।

‘ইকোনমিক পাওয়ারহাউস’খ্যাত আধাস্বায়ত্তশাসিত হংকংয়ের পুরো নিয়ন্ত্রণ পেতে সব সময় মরিয়া চীনের কেন্দ্রীয় সরকার। ১৯৯৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে এ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর থেকেই চলছে সেই লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা। এ জন্য ২০০৩ সালে হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট ওই একই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় চীন। তবে পাঁচ লাখ লোকের বিক্ষোভের মুখে তা সে সময় থেমে যায়। গতকাল ওই আইন প্রণয়নের জন্য পুনরায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হংকংয়ের খুদে সংবিধানের ২৩ ধারা অনুযায়ী চীন সরকারের বিরুদ্ধে যেকোনো বিদ্রোহ ঠেকাতে জাতীয় নিরাপত্তা আইন চালুর বিধান রয়েছে। কিন্তু মানবাধিকার এবং বাক্স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কার কারণে হংকংয়ে এ আইন কখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। সম্প্রতি হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠায় বিতর্কিত এ আইন চালুর বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। এ নিয়ে হংকংয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কায় গতকালই সেখানকার পুঁজিবাজারের সূচকে ৫ শতাংশ পতন ঘটে। হংকংয়ের বেইজিংপন্থী স্থানীয় সরকার অবশ্য ওই আইন চালুর ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা