kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

‘লকডাউনে শৈথিল্য এখনই নয়’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘লকডাউনে শৈথিল্য এখনই নয়’

মহামারির প্রকোপ কমে গেছে মনে করে বিশ্বের যেসব দেশ লকডাউন শিথিল করেছে, সেসব দেশে নতুন করে শুরু হয়েছে সংক্রমণ। চীনের উহান শহরও একই প্রবণতার শিকার। ফলে মহামারির এ পর্যায়ে লকডাউন শিথিল করা কিংবা সামাজিক দূরত্বের বিধি-নিষেধে অবহেলা করার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশের উহানে সর্বপ্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটে। মহামারির লাগাম টানতে এ শহরেই প্রথম কঠোর লকডাউন জারি করা হয়। প্রায় আড়াই মাসের বন্দিদশা শেষে গত মাসের শেষ দিকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করে উহানবাসী। কিন্তু সেই স্বাভাবিকতা বেশি দূর গড়ানোর আগেই নতুন করে সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল সোমবার উহানের সরকারি কর্মকর্তারা নতুন করে পাঁচজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত করার কথা জানিয়েছেন। আক্রান্তদের কেউ দেশের বাইরে থেকে আসেনি, বরং সব সংক্রমণ ঘটেছে স্থানীয়দের মধ্যে। এ ছাড়া চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জিলিন প্রদেশের শুলান শহরে শনাক্ত হয়েছে নতুন ১১ জন। এ অবস্থায় উভয় শহরে আবার শুরু হয়েছে কঠোর বিধি-নিষেধের বেড়াজাল।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের মুখপাত্র মি ফেং গত রবিবার জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। তাঁর মতে, নতুন সংক্রমণের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে গেছে, সামাজিক দূরত্ব মানতে গড়িমসি করার সময় এখনো আসেনি। উপসর্গ দেখা দিলেই মানুষ যেন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়, সেই পরামর্শও দেন তিনি।

পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়ও। অথচ মহামারির শুরু থেকেই করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের শনাক্তকরণ, আইসোলেশন ও চিকিৎসা তৎপরতার পাশাপাশি সবাইকে পরীক্ষার আওতায় আনার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। এসব তৎপরতার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সাফল্য দেখিয়েছে তারা। লকডাউন না দিয়েই সিউল সরকার এ সাফল্য দেখাতে পেরেছে। সেই সিউলে নতুন সংক্রমণের খবর জানিয়ে গত রবিবারের ভাষণে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন। তিনি স্পষ্টই বলেছেন, ‘মহামারি ঠেকানোর স্বার্থে কখনোই আমাদের শৈথিল্য দেখানো যাবে না।’

 

ইউরোপ মহামারিতে পর্যুদস্ত হলেও জার্মানির চিত্র ভিন্ন। বিশাল জনগোষ্ঠী নিয়ে মহামারি নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দেখানো জার্মানি সম্প্রতি লকডাউনে শিথিলের পথে হাঁটতে শুরু করে। কিন্তু অবস্থা বিগড়ে যেতে সময় লাগেনি। গত কয়েক দিনে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখার পক্ষে অভিমত দিয়েছেন রবার্ট কচ ইনস্টিটিউট শীর্ষক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। জার্মানির কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার অবশ্য আগেই ঐকমত্যে পৌঁছেছে, কোনো কাউন্টিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতি লাখে ৫০ জনের বেশি হলে সেখানে আবার লকডাউন জারি করা হবে। গত রবিবার নাগাদ বেশ কয়েকটি কাউন্টিতে ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ওই সীমারেখা অতিক্রম করেছে।

বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেই ভ্রমণ খাত সচল করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের দিক দিয়ে শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রও অর্থনীতির চাকা সচল করতে চায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের অভিমত, মহামারি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে এখনই রাশ আলগা করার সুযোগ নেই, বরং সতর্ক থাকতে হবে, সেই সঙ্গে ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। সূত্র : সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা