kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

করোনামুক্ত তুর্কমেনিস্তান!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনাভাইরাস মহামারিতে নাস্তানাবুদ বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে গেছে। তুর্কমেনিস্তানের চিত্র ঠিক এর উল্টো। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা দূরে থাকা, রীতিমতো গণজমায়েতের আয়োজন প্রায়ই করছে তারা। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার দেশটিতে বাইসাইকেল শোভাযাত্রা করার ঘটনাও ঘটেছে।

তুর্কমেনিস্তানে একজনও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি, সরকারের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে জীবনযাত্রা পুরোপুরি স্বাভাবিক। সরকারের দাবি নিয়ে প্রশ্ন যে নেই, তা নয়। লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক মার্টিন ম্যাককি বলেন, ‘তুর্কমেনিস্তানের সরকারি স্বাস্থ্য তথ্য মারাত্মক অনির্ভরযোগ্য। এক দশক ধরে তারা দাবি করে আসছে, তাদের দেশে এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত কেউ নেই, যা বিশ্বাসযোগ্য নয়।’ তাঁর দাবি, প্লেগসহ বিভিন্ন মহামারির তথ্য গোপন করার ঘটনাও ঘটিয়েছে তুর্কমেনিস্তান সরকার। করোনাভাইরাসমুক্ত থাকার ব্যাপারে সরকারের যে দাবি, সেটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে অধ্যাপক ম্যাককি জানান, তুর্কমেনিস্তানের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট গুর্বাঙ্গুলি বার্দিমুখামেদভ তাঁর শানসকালকে ‘উদ্যম আর সুখের যুগ’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন। এসংক্রান্ত প্রচারের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচার মাধ্যমের অনুষ্ঠানে নিয়মিত তাঁকে ব্যায়াম করতে দেখা যায়, এমনকি সরকারি কর্মকর্তারদের একরকম পোশাক পরে প্রাতঃকালীন শরীরচর্চা করতে দেখা যায়। বার্দিমুখামেদভের শাসনকালে দেশে করোনাভাইরাস মহামারি ছড়িয়ে পড়ার খবর স্বীকার করলে তাঁর সেই ‘উদ্যম আর সুখের যুগ’ সংক্রান্ত দাবি হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে, সেই আশঙ্কা থেকেই সরকার সম্ভবত মহামারির কথা পুরোপুরি গোপন করছে বলে মনে করেন অধ্যাপক ম্যাককি। মধ্য এশিয়ার দেশটির করোনাভাইরাসমুক্ত থাকার দাবি আসলেই সত্যি কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সে দেশে কর্মরত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক এলেনা পানোভা বলেন, ‘আমরা সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করছি, কারণ প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রে এমনটাই করা হচ্ছে। এখানে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের কোনো ব্যাপার নেই।’ সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা