kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন রপ্তানি

ট্রাম্পের হুমকিতে নতিস্বীকার ভারতের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রাম্পের হুমকিতে নতিস্বীকার ভারতের

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় ভালো ফল দিতে পারে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন—বিশেষজ্ঞদের এমন আশাবাদের মধ্যে ভারত সরকার ওই ওষুধ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির পর সিদ্ধান্ত পাল্টেছে তারা।

করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক-প্রতিরোধক আবিষ্কারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়ছেন বিজ্ঞানীরা। এ লড়াইয়ের মধ্যেই বিশেষজ্ঞদের অনেকে জানান, কভিড-১৯ রোগের চিকিৎসায় ভালো ফল দিতে পারে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন।

এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ বিষয়ক দপ্তর (এফডিএ) কভিড-১৯ রোগের চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে, যদিও এফডিএ ওই অনুমোদনের কথা অস্বীকার করেছে।

হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের কার্যকারিতা নিয়ে দোলাচলের মধ্যেই গত ২৫ মার্চ ভারত সেটি রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। না বললেই নয়, ভারত হলো বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, ভারতে সংশ্লিষ্ট কম্পানিগুলো পুরোদমে উৎপাদন শুরু করলে তারা এক মাসে প্রায় ১০০ টন হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন উৎপাদন করতে পারবে। মোটামুটি সাত কোটি মানুষের চিকিৎসার জন্য তা যথেষ্ট। অভ্যন্তরীণ পণ্য হওয়ায় ভারতে সেটি সস্তা হবে বলে জানায় সংবাদমাধ্যমগুলো।

মহামারির মধ্যে নিজেদের জন্য যথেষ্ট হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নিশ্চিত করতে ভারত ওই পণ্যের রপ্তানি বন্ধ করে দিলে গত রবিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তখন তিনি মোদিকে ওই ওষুধ পাঠানোর অনুরোধ করেন।

এ ব্যাপারে গত সোমবার হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের মধ্যে চমৎকার কথাবার্তা হয়েছে। দেখি, তিনি (হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন) দিতে রাজি হন কি না। অনেক বছর ধরে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাণিজ্য সুবিধা নিয়েছে। আমি খুব বিস্মিত হব যদি তিনি রাজি না হন। তিনি যদি না দেন, তাহলে ঠিক আছে। অবশ্যই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। কেনই বা নেওয়া হবে না?’

ট্রাম্পের হুমকির পরদিনই ভারত সরকার জানায়, করোনাভাইরাসে মারাত্মক পর্যুদস্ত দেশগুলোয় ‘যথাপরিমাণে’ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন পাঠানো হবে। বৈশ্বিক মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে মানবিক বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে গতকাল মঙ্গলবারের বিবৃতিতে জানায় সরকার। ‘এ বিষয় নিয়ে যেকোনো রাজনীতির চেষ্টাকে আমরা নিরুৎসাহ করছি’, বিবৃতিতে এমনটা বলেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি। গত সপ্তাহে এফডিএর বিবৃতিতে বলা হয়, হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন ৫০ কেজির বেশি ওজনের করোনাভাইরাস রোগীদের জন্য রাষ্ট্রীয় মজুদ থেকে যেন জরুরি ভিত্তিতে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন সালফেট সরবরাহ করা হয়।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা তিন লাখ ৬৮ হাজারের বেশি। মৃতের সংখ্যা ১১ হাজার পেরিয়েছে। ভারতে প্রায় পাঁচ হাজার ব্যক্তির দেহে ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা ১৩৮। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা