kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

জেসনের প্লাজমায় সুস্থ হচ্ছেন অনেকেই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জেসনের প্লাজমায় সুস্থ হচ্ছেন অনেকেই

হাসপাতালে প্লাজমা দেন জেসন। ছবি : সিএনএন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা জেসন গার্সিয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন, বেশ অসুস্থ হয়ে কোয়ারেন্টিনেও ছিলেন তিনি, সেরেও উঠেছেন। এরপর মহামারিতে আক্রান্তদের সেবায় বিশেষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে লুফে নেন তিনি। আশার কথা হলো, তাঁর দেওয়া প্লাজমা করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের শরীরে প্রবেশ করানোর সুফলও মিলতে শুরু করেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার এসকনডিডোর বাসিন্দা জেসন পেশায় মহাকাশযান প্রকৌশলী। ৩৬ বছর বয়সী জেসন গত ৬ মার্চ খেয়াল করেন তাঁর হালকা কাশি হচ্ছে এবং নাক বন্ধ হয়ে আছে। কাজের উদ্দেশে বের হয়ে তিনি খেয়াল করেন, আগের লক্ষণগুলোর সঙ্গে মাথাব্যথা শুরু হয়ে গেছে। সেদিনই তাঁর জ্বর হয়, সঙ্গে শরীর ব্যথা, যা সেরে যেতেও মোটেই দেরি হয়নি; কিন্তু এরপর শুরু হয় তাঁর শ্বাসকষ্ট।

এরপর ডাক্তারকে ফোনে উপসর্গগুলো জানালে তিনি জেসনকে হাসপাতালে গিয়ে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করাতে বলেন। হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহের পর তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গত ১৪ মার্চ তাঁকে ফোনে জানানো হয়, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এটা জানার পর চিকিৎসকদের পরামর্শ কঠোরভাবে মেনে চলেন জেসন। তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে আইসোলেশনে থাকতে বলল। আমি ঠিক তা-ই করেছি।’ ১০ দিনের কোয়ারেন্টিনের সময় তিনি স্ত্রী আর ১১ মাস বয়সী মেয়ের সংস্পর্শও এড়িয়ে চলেছেন।

গত ১৮ মার্চ জেসন সম্পূর্ণ সুস্থ অনুভব করেন। কাউন্ট অব সান দিয়েগো শীর্ষক স্থানীয় সরকারি সংস্থা থেকে ফোন করে তাঁকে বলা হয়, ২৩ মার্চ থেকে তিনি বাইরে স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করতে পারেন। এর পরও বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আরো পাঁচ দিন ঘরবন্দি থাকেন জেসন।

কোয়ারেন্টিন পর্ব শেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেন জেসন, ‘কভিড-১৯-কে জয় করেছি আমি।’ কাছাকাছি সময়ে অরেঞ্জ কাউন্টির সেন্ট জোসেফ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানায়, করোনাভাইরাসকে পরাজিত করে সুস্থ হয়ে ওঠা লোকজনের সহায়তা চায় তারা। উভয় পোস্টই খেয়াল করে জেসনের এক বন্ধু দুই পক্ষের যোগাযোগ করিয়ে দেন। জেসনের সুস্থ হয়ে ওঠার কয়েক দিনের মাথায় ওই হাসপাতাল থেকে ফোনে তাঁকে বলা হয়, মারাত্মক অসুস্থ যেসব কভিড-১৯ রোগীর আর কোনো চিকিত্সায় কাজ হচ্ছে না, তাদের শরীরে জেসনের প্লাজমা ঢুকিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে চান চিকিৎসকরা।

নিজের সুস্থতাকে কাজে লাগানোর এমন সুযোগ নিতে দেরি করেননি জেসন। গত বুধবার তিনজনকে প্লাজমা দান করেন তিনি। ওই তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে অসুস্থ ব্যক্তির অবস্থার উন্নতি হয়েছে, গত রবিবার জেসনকে এমনটা জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেটা জেনে ভীষণ খুশি জেসন বলেন, ‘এতে যদি কাজ হয়, তবে মানুষকে মানুষের সাহায্য করার এক অপূর্ব সুযোগ তৈরি হবে।’ সূত্র : সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা