kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

ময়লা ফেলার ব্যাগ দিয়ে পিপিই বানাচ্ছেন ব্রিটিশ স্বাস্থ্যকর্মীরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ময়লা ফেলার ব্যাগ দিয়ে পিপিই বানাচ্ছেন ব্রিটিশ স্বাস্থ্যকর্মীরা

যুক্তরাজ্যের হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের পরিবেশ ও সরঞ্জামের শোচনীয় অবস্থা উঠে এসেছে নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের (আইসিইউ) একজন চিকিৎসকের বক্তব্যে। করোনাভাইরাসের কারণে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, যাদের অবস্থা সংকটময় তাদের জন্য দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে হাসপাতালগুলো। মূলত আইসিইউ বাড়াতেই এ উদ্যোগ। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, যথাযথ সাপোর্ট বা সরঞ্জাম তাঁরা পাচ্ছেন না।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁরা যে বিষয়টিতে জোর দিয়েছেন তা হলো সরঞ্জামের অভাব। তাঁদের গণমাধ্যমে কথা বলতেও নিষেধ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের একজন কর্মরত চিকিৎসক বিবিসির সঙ্গে কথা বলতে রাজি হন নাম প্রকাশ না করার শর্তে। এই প্রতিবেদনে তাঁর নাম পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে।

ড. রবার্টস, খাদের কিনারায় থাকা একটি হাসপাতালের কথা বলছেন। এই হাসপাতালের আইসিইউ এখন কভিড-১৯ রোগীতে পরিপূর্ণ। যা যা মনে করা হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় তার সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, এমনকি এর মধ্যে আছে ক্যান্সার ক্লিনিক। এই হাসপাতালে কর্মীর অভাব আছে, সংকটময় রোগীর জন্য বিছানার অভাব আছে, একদম সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক ও ভেন্টিলেটরের অভাব আছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাস ১৪ থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে বড় আঘাত হানবে, বিশ্লেষকদের ভাষায় যেটাকে বলা হচ্ছে ‘পিক টাইম’।

কর্মীরা এখনই অনুভব করছেন কী পরিমাণ সংকটময় সময় আসছে সামনে। চূড়ান্তভাবে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিচ্ছেন এমন ডাক্তাররা এখন ১৩ ঘণ্টা কাজ করছেন প্রতিদিন। ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) বা ব্যক্তিগত সুরক্ষা দেওয়া সরঞ্জামের অভাব প্রকট। এমনও হয়েছে যে পিপিইর অভাবে ময়লা ফেলার পলিথিন, প্লাস্টিকের অ্যাপ্রোন ও স্কিইং করার চশমা পরে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন তাঁরা।

ড. রবার্টস একটি ফেস মাস্কের প্যাকেট থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ লেখা স্টিকার সরিয়ে ফেলেছেন। যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই করোনাভাইরাস আক্রান্ত হতে পারেন এমন ব্যক্তির থেকে ২০ সেন্টিমিটারের মতো দূরত্বে থেকে কাজ করছেন ডাক্তাররা, যেখানে সাধারণ মানুষকে বলা হচ্ছে দুই মিটার হতে হবে ন্যূনতম দূরত্ব। রবার্টস বলছেন, যে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে তাঁদের জীবনে সেটা এখনই ভাবাচ্ছে, তাঁরা এখন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছেন এবং নিজেদের পিপিই নিজেরাই তৈরি করছেন।

রবাটর্স বলেন, ‘এটা বাস্তব চিন্তা, নিবিড় চিকিৎসা যেসব নার্স দিচ্ছেন তাঁদের এটা এখনই প্রয়োজন। তাঁরা যেখানে কাজ করছেন সেখানে ভাইরাস অ্যারোসলের মতো করে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁদের বলা হচ্ছে খুব সাধারণ টুপি পরতে, যেটায় ছিদ্র আছে। যেটা কোনো সুরক্ষাই দিচ্ছে না।’ ১ এপ্রিল ১০ লাখ শ্বাসযন্ত্র রক্ষাকারী মাস্ক দিয়েছে বলে জানিয়েছে এনএইচএস, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা। তবে সেখানে মাথার সুরক্ষা ও গাউনের কথা বলা হয়নি। রবার্টস যেখানে কাজ করছেন সেই হাসপাতালে কোনো সরকারি সামগ্রী পৌঁছায়নি বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘এখন আমরা যে মাস্ক দিয়ে কাজ করছি সেটাতে নতুন করে তারিখ বসানো হয়েছে। আমি তিনটি স্টিকার দেখেছি যেখানে লেখা মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ ২০০৯, ২০১৩ ও একটিতে ২০২১।’ সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা