kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

ঘরবন্দি অলস সময়

মুটিয়ে যাওয়া ঠেকাতে খেতে হবে কম

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিষেধক-প্রতিকার কিছুই জানা নেই, তাই বিশ্বের কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ মানুষ করোনাভাইরাস আটকাতে ঘরে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। সামর্থ্যবানরা পর্যাপ্ত খাদ্যের মজুদ নিশ্চিত করে তবেই নিজেদের ঘরবন্দি করেছে। এখন তাদের রান্নাবান্না আর খাওয়া ছাড়া তেমন কোনো ব্যস্ততা নেই। এ অবস্থায় মুটিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় কী!

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপায় একটা আছে। আপাতত কম খাওয়ার চর্চা করতে হবে। স্বেচ্ছায় বা লকডাউনের কারণ ঘরবন্দি হওয়ার পরিণতি সম্পর্কে হুঁশিয়ারি দিয়ে পুষ্টি বিশেষজ্ঞ বিয়াট্রিস ডি রেইনাল বলেন, ‘এ অভিজ্ঞতা আমাদের শক্তিশালী করে তুলবে কি না, তা আমি জানি না। তবে আমরা আরো মুটিয়ে যাব।’ সেটা ঠেকাতে একটাই রাস্তা আছে—কম খেতে  হবে।

ফ্রান্সের ক্রীড়া, স্বাস্থ্য ও রান্না বিষয়ক প্রশিক্ষক জুলিয়াঁ মারসি আরো কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা যদি শরীরচর্চার চেষ্টা করি, তার পরও আমরা সবাই মোটা হয়ে যাব।’ এর কারণ ব্যাখ্যায় তিনি জানান, আতঙ্কে হোক আর সচেতনতার কারণে হোক, ঘরে থাকতে বাধ্য হওয়ার কারণে আমরা খাওয়ার মাধ্যমে মানসিক স্বস্তি লাভের চেষ্টা করব। নিজের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটতে শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, তিনি আপেলের বদলে চকোলেটের দিকে ঝুঁকেছেন। খাদ্যাভ্যাসে এমন পরিবর্তন মানুষকে স্থূল করে ফেলবে।

আরেক দল বিশেষজ্ঞ বলছেন, করোনাভাইরাস আতঙ্কে অনেকে প্রচুর খাবার মজুদ করেছে। ঘরে অলস সময় কাটাতে কাটাতে সেগুলো খাওয়ার দিকেই সব মনোযোগ নিবদ্ধ করছে মানুষ। এ ছাড়া যারা ঘরে একলা সময় পার করছে, তারা রান্না আর খাওয়ার মাধ্যমে অবসাদ কাটানোর চেষ্টা করছে।

মহামারির কারণে বিশ্বজুড়ে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ থাকবে কি না, সেটা একটা বড় চিন্তা। মহামারির আতঙ্ক তো আছেই। এসবের মধ্যে সুষম খাদ্যাভ্যাস আর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা বিরাট চ্যালেঞ্জ বলে মনে করে ব্রিটিশ নিউট্রিশন ফাউন্ডেশন।

চ্যালেঞ্জটা বড় হওয়ার কারণ হলো, বিশ্বজুড়ে চলমান লকডাউন পরিস্থিতিতে ঘরে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের একেকজন দিনে ৪০০ ক্যালরির বেশি শক্তি খরচ করতে পারবে না। শরীরে জমা হতে থাকা  ক্যালরি অনায়াসে আমাদের মোটা বানিয়ে ফেলবে, এমনটা জানান ডায়েটিশিয়ান জেনিফার অবার্ট। তার পরও আশা ছাড়তে রাজি নন তিনি। আমাদের হাতে থাকা অঢেল সময়ে নিজেদের আরো বেশি করে শরীরচর্চায় ব্যস্ত রাখার পরামর্শ দেন এ পথ্যব্যবস্থাবিদ। সেই সঙ্গে বজায় রাখতে হবে সুষম খাদ্যতালিকা। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা