kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

দুশ্চিন্তাই এখন তাঁদের একমাত্র কাজ

ঘরে বন্দি ভারতের ১০ কোটি ‘অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত শ্রমিক’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জীবিকার টানে ভারতের ওড়িশার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে গুজরাটে পাড়ি জমিয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী প্রমোদ সাহু। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের কারণে দেশটির অন্যান্য শহরের মতো ব্যস্ততম গুজরাটও এখন ‘অবরুদ্ধ’ (লকডাউন)। সব কলকারখানা, অফিস-আদালত বন্ধ। ফলে ঘরে বসেই সময় পার করছেন পোশাক খাতের শ্রমিক প্রমোদ সাহু। কিন্তু টাকা-পয়সা, খাবার যা ছিল, সবই ফুরিয়ে আসছে। এ অবস্থায় নিজের এবং গ্রামে ফেলা আসা পরিবারের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

ভারতে প্রমোদের মতো ‘অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত শ্রমিকের’ (ইন্টারনাল মাইগ্রান্ট ওয়ার্কার) সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি। প্রমোদ বলেন, ‘আমি দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ করতাম। কিন্তু এখন ঘরে বসে থাকা, ফোনে সময় কাটানো এবং দুশ্চিন্তা করা ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই। এখন একজনের খাবার চারজনকে ভাগ করে খেতে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, শিগগিরই না খেয়ে মারা যাব।’

ভারত সরকারের ২০১৬-১৭ সালের জরিপ অনুযায়ী, দেশটির মোট শ্রমশক্তির ২০ শতাংশই এসব অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত শ্রমিক। ইউনেসকোর হিসাব অনুযায়ী, ভারতের মোট উৎপাদনের ১০ শতাংশই এদের হাত দিয়ে হয়ে থাকে।

কিন্তু আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র না থাকায় প্রতিনিয়ত এসব শ্রমিককে বৈষম্যের শিকার হতে হয়। চাকরিচ্যুত হওয়ার পর কোনো ধরনের অর্থ তাঁরা পান না। এ অবস্থায় চলমান লকডাউন কর্মসূচি সেখানে মানবেতর এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। অনেকের আশঙ্কা, ভারতে বেকার জনগোষ্ঠীর কারণে যে সংকট তৈরি হবে, তা করোনাভাইরাসে প্রাণহানির চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অর্থনীতিতে প্রণোদনা দিতে ভারত সরকার বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু তাতে করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত শ্রমিকদের খুব একটা লাভ হবে না।

এরই মধ্যে লকডাউন ভেঙে অনেক শ্রমিককেই রাস্তায় নামতে দেখা গেছে। যানবাহন বন্ধ থাকায় শত শত কিলোমিটার হেঁটে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন—এমন খবরও প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমে আসছে।

শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন নিবেদিতা জয়ারাম। তিনি জানান, ভারতে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত শ্রমিকের সংখ্যা ১০ কোটির বেশি হবে। কারণ সব শ্রমিককেই জরিপের আওতায় আনা সম্ভব হয় না। তবে সংখ্যায় যা-ই হোক, বাস্তবতা হলো, এসব শ্রমিকের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের হাতে জমানো কোনো টাকা নেই। নিবেদিতা বলেন, ‘সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো, গ্রামে এসব শ্রমিকের স্বজনরা টাকার আশায় বসে আছে। কিন্তু কোনো টাকা পাচ্ছে না। সব কিছু মিলিয়ে কোটি কোটি মানুষ ক্রমে চরম দারিদ্র্যতার দিকে চলে যাচ্ছে।’ সূত্র : আলজাজিরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা