kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

অভিযান চালিয়ে খালি করা হলো দিল্লির মারকাজ চত্বর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বড়সড় অভিযান চালিয়ে পুরোপুরি খালি করা হলো ভারতের দিল্লির নিজামউদ্দিনের শতাব্দীপ্রাচীন মারকাজ মসজিদ চত্বর। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের নেতৃত্বে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে বুধবার সকালের মধ্যে এ অভিযান চালায়। সেখানে অবস্থান করা দুই হাজার ৩০০ জনের সবাইকে বের করে নিয়ে আইসোলেশনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। চত্বরে বেশ কিছু অস্থায়ী কাঠামোও ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। নিজামউদ্দিনের মসজিদ চত্বরের প্রায় ১৩৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। সেখান থেকে আক্রান্ত হওয়া সাতজনের মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার পরেই ওই মসজিদ ও চত্বরকে করোনাভাইরাসের আঁতুড়ঘর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর পরেই এ অভিযান চালানো হলো। মসজিদ কর্তৃপক্ষের মাওলানা সাদ, জিশান, মুফতি শেহজাদ, এম সফি, ইউনুস, মোহম্মদ সালমান ও মোহাম্মদ আসরাফ নামের সাতজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

মার্চের প্রথম থেকে মধ্যভাগ পর্যন্ত দিল্লির ওই মসজিদে এক বিরাট ধর্মীয় সমাবেশের আয়োজন করে তাবলিগ-ই-জামাত সংগঠন। সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভিড় জমান মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। এমনকি মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকেও বহু মুসলমান ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নিজামউদ্দিনে আসেন। তাঁদের অনেকেই নিজেদের রাজ্যে ফিরে গেছেন। ফলে ওই ব্যক্তিদের মধ্যে কিছু মানুষও যদি করোনা সংক্রামিত হন, তবে তাঁদের থেকে হু হু করে ওই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে অন্যের শরীরেও। তাই তাবলিগ-ই-জামাত সদস্য থেকে সতর্ক থাকুন, তাঁদের খুঁজে বের করুন—দেশের সব রাজ্যের সরকারকে এমন নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র সরকার।

অজিত দোভাল অভিযানে নামার আগেই পুলিশ প্রশাসন মারকাজ চত্বর খালি করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাবলিগ জামাতের নেতৃত্ব সহযোগিতা করতে রাজি হয়নি। সংগঠনের প্রধান মাওলানা সাদ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি মারকাজ খালি করতে দেবেন না। এর পরই দোভালকে ময়দানে নামান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার রাত ২টা নাগাদ পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্তাদের নিয়ে মারকাজ নিজামউদ্দিনে যান দোভাল। মাওলানা সাদের সঙ্গে তিনি নিজে কথা বলেন এবং মারকাজ খালি করার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে সক্ষম হন। মারকাজ কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক অভিযানে সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নেয়।  এর পরেই দিল্লি পুলিশ মারকাজ খালি করার কাজ শুরু করে দেয়। সূত্র : এনডিটিভি, আনন্দবাজার পত্রিকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা