kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

দক্ষিণ কোরিয়া যেভাবে সফল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দক্ষিণ কোরিয়া যেভাবে সফল

করোনাভাইরাস ঠেকাতে দারুণভাবে সফল হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটিতে এই ভাইরাসের সংক্রমণ এখন প্রায় নেই বললেই চলে। এক বিশেষজ্ঞ ও সরকারি এক গোপন নথির ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ কথা জানা গেছে।

ওই নথিতে দেখা যায়, গত ১৭ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার সংক্রামক ব্যাধি বিষয়ে দুই ডজন শীর্ষ বিশেষজ্ঞ একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সামাল দেন। চীন ভ্রমণ করে আসা এক দক্ষিণ কোরীয় পরিবারের মধ্যে নিউমোনিয়ার দেখা পান তাঁরা। তত দিনে চীনে ছড়িয়ে পড়েছে অজ্ঞাত এক রোগ।

নতুন ধরনের করোনাভাইরাস হিসেবে কল্পনা করে নেওয়া রোগটি দ্রুতই পরিবারের সদস্য ও তাদের সংস্পর্শে আসা স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দক্ষিণ কোরিয়ার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (কেসিডিসি) রোগটির জীবনশক্তি ও উৎপত্তি খুঁজতে অ্যালগরিদমের পাশাপাশি দ্রুত পরীক্ষার কৌশলও তৈরি করে ফেলেন।

গোপন ওই নথি অনুসারে, ২০ জানুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম নভেল করোনাভাইরাসের সন্দেহভাজন রোগী পাওয়া যায়। শুরুতে বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়া ব্যাপকভাবে পরীক্ষা শুরু করে। উপসর্গ না থাকলেও অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে, এমন লোকদের পরীক্ষা করা, নিশ্চিত রোগীদের বিচ্ছিন্ন করে রাখা এবং তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার মতো বিস্তৃত কর্মসূচি নিয়েছিল দেশটি।

বিপর্যয় সৃষ্টির আগেই নভেল করোরাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় দক্ষিণ কোরিয়ার নেওয়া কার্যকর পদক্ষেপ খুবই প্রশংসিত হয়। এ মহামারিতে ৯ হাজার ৫৮৩ জন আক্রান্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তিন সপ্তাহ ধরে সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১০০ বা তার নিচে রয়েছে।

কেসিডিসির অন্যতম বিশেষজ্ঞ লি স্যাং অন বলেন, ২০১৫ সালে মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (মার্স) ভাইরাস প্রতিরোধে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার পর ২০১৮ সালে বৃহদাকারে ডিএনএ বিশ্লেষণ ক্ষমতা জোরদারে ‘স্টাডি গ্রুপ’ হিসেবে কেসিডিসির অধীনে বিশেষজ্ঞ দলটি গঠন করে দক্ষিণ কোরিয়া। তিনি আরো বলেন, ‘চীন করোনাভাইরাসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার আগেই কেসিডিসি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়।’

নথিতে আরো দেখা যায়, চীন ভাইরাসটিকে শনাক্ত করার তিন দিন আগে ৪ জানুয়ারি কেসিডিসির বিশেষজ্ঞ দলটি পরীক্ষা পদ্ধতি আবিষ্কার করে ফেলে। ৯ জানুয়ারি তারা সন্দেহজনক ঘটনাগুলো পরীক্ষা করা শুরু করে। মার্চের প্রথম দিকে দক্ষিণ কোরিয়া দিনে ২০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করতে পারত। তখন দেশটির পাঁচটি কম্পানি একযোগে নিজেদের ব্যবহার ও রপ্তানির জন্য ব্যাপক আকারে টেস্টিং কিট তৈরি করছিল।

লি বলেন, “দেশে মাত্র কয়েকটি সংক্রমণের ঘটনা নিয়ে ওই সময় আমাদের প্রতিক্রিয়াটা হয়তো একটু বেশিই দেখানো হয়েছে। কিন্তু এটা যে আসলেই একটা মহামারিতে রূপ নিতে পারে, তার যথেষ্ট আশঙ্কা ছিল। আমরা কি যথেষ্ট ভালো করেছি? আমি জানি না। কিন্তু ২০১৫ সালে আমরা যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছিলাম, তা ফিরে আসুক আমরা চাই না। এখন আমাদের মূলমন্ত্র, ‘নেভার অ্যাগেইন’ (ন্যাড়া একবারই বেলতলায় যায়)।” সূত্র : রয়টার্স।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা