kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৬  মে ২০২০। ২ শাওয়াল ১৪৪১

ভারতে কর্মহীন শ্রমিকদের ওপর জীবাণুনাশক স্প্রে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ভারতে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকার ঘোষিত ২১ দিনের লকডাউন উপেক্ষা করে কর্মহীন পরিযায়ী শ্রমিকরা রাস্তায় বের হওয়ার পর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ জড়িয়েছেন। গুজরাটে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ছুড়েছে। এর আগে উত্তর প্রদেশে পরিযায়ী এসব শ্রমিকের ওপর জীবাণুনাশক ব্লিচ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এই জীবাণুনাশক সাধারণত বাসে ব্যবহার করা হয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউনের ঘোষণা দেওয়ার পর নিম্নশ্রেণির লাখো মানুষ কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো শহরগুলোর গরিব পরিযায়ী শ্রমিকরা মানবিক সংকটে পড়েছেন। কর্মহীন হয়ে পড়ায় তাঁরা হেঁটে শত শত মাইল দূরের গ্রামে ফেরার চেষ্টা করছেন।

ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট পরা এক দল লোক উত্তর প্রদেশের বেরেলিতে রাস্তায় বলে থাকা শ্রমিকদের ওপর জীবাণুনাশক স্প্রে করছে। উত্তর প্রদেশের কভিড-১৯ সংক্রমণ রোধের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা অশোক গৌতম জানান, অন্তত পাঁচ হাজার লোকের ওপর প্রকাশ্যে স্প্রে করা হয়েছে। এরপর তাঁদের যার যার বাড়িতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

শ্রমিকদের অনেকেই ছোট শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিনের পর দিন হেঁটে গ্রামে ফিরছেন। ঘরমুখো এসব মানুষ খালি পেটেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটছে। এদিকে রবিবার ভারতের পঞ্চিমাঞ্চলীয় গুজরাট রাজ্যের সুরাটে প্রায় ৫০০ শ্রমিকের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। শ্রমিকদের দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজ বাড়িতে ফিরতে পুলিশ বাধা দেওয়াতেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সুরাটের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বিধি চৌধারি বলেন, ‘পুলিশ তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে বাস এবং ট্রেন চালু না থাকায় ঘরে ফেরা যাবে না। কিন্তু শ্রমিকরা সে কথায় কান না দিয়ে পুলিশের ওপর পাথর ছুড়তে শুরু করে।’ তিনি জানান, এই শ্রমিকরা সুরাটের পোশাক কারখানাগুলোতে কাজ করতেন। তাঁদের টিয়ার গ্যাস ছুড়ে হটিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সোমবার লকডাউনের নির্দেশ উপেক্ষা করায় ৯৩ শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভারতে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭১ জনে। আর মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৯ জন। সূত্র : সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা