kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

ট্রাম্পকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে ইতিহাস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রাম্পকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে ইতিহাস

সব কিছু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, শিগগিরই সব ঠিক হয়ে যাবে—করোনাভাইরাস মহামারির প্রথম দিকে এমন অবস্থান নিলেও পরিস্থিতির ভয়াবহতায় সেখান থেকে সরে আসতে দেরি করেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মানে এই নয় যে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে তাঁর ব্যর্থতার কথা ইতিহাস ভুলে যাবে, বরং তাঁর কর্মকাণ্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে, এমনটাই মনে করেন বিশিষ্টজনরা।

নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া মহামারিতে মানুষের দুর্ভোগকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিবর্তে কেন ট্রাম্প অনবরত অর্থনৈতিক বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে যাচ্ছেন, এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন মার্কিন লেখক মাইকেল ডি’অ্যান্টোনিও। তাঁর মতে, ‘সফল’ ব্যবসায়ী থেকে প্রেসিডেন্ট বনে যাওয়ার যে কাহিনি সংবাদমাধ্যমগুলোয় প্রচার পেয়েছে, সেটার পেছনের চিত্র আলাদা। এ লেখকের ভাষ্য, বড়মাপের জটিল প্রতিষ্ঠান চালানোর কোনো যোগ্যতা ট্রাম্পের নেই। ব্যবসায়ী হিসেবে অসংখ্যবার দেউলিয়া অবস্থায় পড়েছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারকালে এসব ব্যর্থতা ঢাকতে তিনি সব সময় গুরুতর প্রশ্নগুলো এড়িয়ে গেছেন, মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন এবং এ পথ ধরেই প্রেসিডেন্সি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর সেই মিথ্যাচার আর দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা মহামারি পরিস্থিতিতেও অব্যাহত আছে।

মানুষ হয়েও ট্রাম্প এই মুহূর্তে মানুষের দুর্ভোগ উপলব্ধি করতে পারছেন না, এমন অভিযোগ করে ডি’অ্যান্টোনিও বলেন, মানুষের আবেগ বুঝতে পারা এবং সহমর্মিতা দেখাতে পারার মতো গুণ ট্রাম্পের নেই। এ জন্য তাঁর কথাবার্তায় কখনো নিপীড়িত মানুষের স্থান হয় না। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকলেও খুব সহজেই তিনি বলতে পারেন, ‘আমরা যেসব কার্যক্রম চালাচ্ছি, তাতে আনন্দিত না হওয়ার কোনো কারণই নেই।’ মানবিক গুণের কথা বাদ দিয়ে যদি বিশেষজ্ঞ অভিমতের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গ আসে, সেখানেও ট্রাম্প সুবিধাবাদী অবস্থান নেন। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ অভিমতকে তিনি কুজনের গুজব বলে উড়িয়ে দিতেও ছাড়েননি।

ডি’অ্যান্টোনিওর মতে, ব্যবসায়ী আর প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্প যে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন, সেটা খুব একটা ক্ষতিকর নয়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর আচরণ গোটা জাতির জীবন বিপন্ন করে তুলেছে। করোনাভাইরাস মহামারি চরমে পৌঁছে যাওয়ার পরও কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত উপদ্রুত এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম বণ্টনের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে না। উল্টো বিভিন্ন হাসপাতাল, স্থানীয় সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। সরবরাহের অভাবে স্বাস্থ্যকর্মীরা একই মাস্ক বারবার ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন, যদিও সেটা একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়ার কথা। পিপিইর (পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট) অভাবে তাঁরা সুরক্ষার জন্য পলিথিন ব্যবহার করছেন। অথচ এমন পরিস্থিতে গেল সপ্তাহেই ট্রাম্প গর্বভরে বলেছেন, মহামারি ঠেকাতে আমেরিকার ভূমিকা ইতিহাস কখনো ভুলবে না। কিন্তু তিনি জানেন না, তাঁর কর্মকাণ্ডের প্রতিটি মুহূর্তের চুলচেরা হিসাব করবে ইতিহাস, এমনটা বলেন ডি’অ্যান্টোনিও।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়েছে, মারা গেছে তিন হাজারের বেশি মানুষ। ৯/১১ বা হারিকেন ক্যাটরিনায় হুট করে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এবার কিন্তু তা হয়নি। মহামারি এসেছে ধীর পায়ে। সেটা কিভাবে সামাল দিতে হয়, সেই নির্দেশনাও রেখে গেছেন ট্রাম্পের পূর্বসূরি বারাক ওবামা। সময় আর পথ দুটোই ছিল ট্রাম্পের সামনে। তার পরও মহামারি রোধে ব্যর্থতার কারণে ইতিহাসের কাছে তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে। সূত্র : সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা