kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

লকডাউন নেই, সুইডেনে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউরোপে বহু দেশে যখন করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন অবস্থা চলছে তখন সুইডেন অন্য সবাইকে অনুসরণ না করে এমন এক পন্থা নিয়েছে, যা স্বাভাবিক জীবনের অনেক কাছাকাছি। সব কিছু বন্ধ না করে তারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত জীবনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

যদিও সুইডেনে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার লোকের করোনাভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে এবং মারা গেছে ১০৫ জন। তা সত্ত্বেও দীর্ঘ শীতের পর সুইডেনের রাজধানীতে যখন ‘বাইরে বসে থাকার মতো’ গরম পড়েছে, তখন লোকে তার সর্বোত্তম ব্যবহার করতে দ্বিধা করছে না। স্টকহোমের পার্কে ও স্কয়ারে দেখা যাচ্ছে গোটা পরিবার বসে আইসক্রিম খাচ্ছে। ফুটপাতের কিনারায় বসে আছে তরুণ যুগলরা। এ সপ্তাহে শহরের নাইটক্লাবগুলোও খোলা ছিল। তবে স্থানীয় সময় রবিবার থেকে ৫০ জনের বেশি জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

অন্য সময়ের তুলনায় সুইডেনের রাস্তায় চোখে পড়ার মতো নীরবতা। স্টকহোমের গণপরিবহন কম্পানি এসএল বলছে, ট্রেন আর সাবওয়েতে লোকজন কমে গেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। শহরের প্রায় অর্ধেক লোক ঘরে বসে কাজ করছে। সুইডেনের কর্মক্ষম জনশক্তি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বাড়িতে বসে রিমোট ওয়ার্কিং করতে অভ্যস্ত।

ব্যবসাসংক্রান্ত একটি রাষ্ট্রীয় কম্পানি এসবিআরের প্রধান নির্বাহী স্টাফান ইংভারসন বলছেন, ‘যে কম্পানিরই এটা করার ক্ষমতা আছে, তারা এটা করছে এবং তাতে কাজও হচ্ছে।’ আসলে এটাই হচ্ছে সুইডেনের সরকারি স্ট্র্যাটেজির মূল কথা, নিজের দায়িত্ববোধ।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আশা করছে, কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ না করেও এভাবেই ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা যাবে। কঠোর নিয়ম-কানুন না করে এখানে দেওয়া হচ্ছে নির্দেশিকা—অসুস্থ বা বয়স্ক হলে ঘরে থাকা, হাত ধোয়া, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ না করা, বাড়িতে বসে কাজ করা।

প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লফভেন এক টিভি ভাষণে বলেছেন, ‘বড়দের বড়র মতো আচরণ করতে হবে, আতঙ্ক সৃষ্টি করবেন না, গুজব ছড়াবেন না। এ সংকটে কেউ একা নয়, সবারই বড় দায়িত্ব আছে।’

সুইডেনে সরকারি কর্তৃপক্ষের ওপর মানুষের আস্থা অনেক উচ্চ। ফলে তারা নিজে থেকেই নির্দেশাবলি মেনে চলে। জনসংখ্যার একটি বৈশিষ্ট্যও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এই ‘সুইডিশ অ্যাপ্রোচের’ অনেকে সমালোচনাও করছেন। সুইডেনের মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের একজন এপিডেমোলজিস্ট এমা ফ্রানজ বলছেন, ‘ইউরোপের রাজনীতিবিদ ও বিজ্ঞানীরা সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না তা ইতিহাসই বিচার করবে। কোন পদক্ষেপ যে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে, তা কেউই জানে না।’ সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা