kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

‘আমরা একা নই’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘আমরা একা নই’

এলেন জনসন সারলিফ

আতঙ্ক, উৎকণ্ঠা, একের পর এক মৃত্যুর মধ্যেই প্রেরণাদায়ী বার্তা দিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী এলেন জনসন সারলিফ। তাঁর মতে, করোনাভাইরাস মহামারি রোধে বিশ্বের বিপুলসংখ্যক মানুষের ঘরবন্দি হওয়ার মানে এই নয় যে তারা একা। বিপন্ন মানুষের সেবায় যাঁরা এ মুহূর্তে নিজেদেরই বিপন্ন করে তুলছেন, তাঁদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, তাঁরাই সার্থক জীবনের অধিকারী।

আফ্রিকা মহাদেশে প্রথম নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট হতে পারার গৌরব অর্জন করেছেন সারলিফ। ২০০৬ সালে লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে এক যুগ দেশ শাসনকালে ইবোলার মতো ভয়াবহ মহামারি সামাল দেওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর অর্জনের ঝুলিতে। বর্তমানে করোনাভাইরাসের মতো বৈশ্বিক মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে সেই নারীর অভিমত জানতে ধরনা দেয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি। জবাবে সারলিফ বিশ্ববাসীর উদ্দেশে দিয়েছেন খোলা চিঠি। গতকাল সোমবার সেটা প্রকাশ করেছে ওই সংবাদমাধ্যম।

চিঠিতে সারলিফ জানিয়েছেন, ইবোলা মহামারিতে লাইবেরিয়ায় যখন এরই মধ্যে দুই হাজার প্রাণহানি ঘটে গেছে, সেই সময় ২০১৪ সালের ১৯ অক্টোবর সহায়তা চেয়ে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে চিঠি লিখেছিলেন তিনি। ইবোলা বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করবে, সেই আশঙ্কা থেকে ওই মহামারি রুখে দিতে তিনি বৈশ্বিক ঐক্য প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর সেই আহ্বানে বিশ্ব ‘ইতিবাচকভাবে’ ও ‘দৃঢ়ভাবে’ সাড়া দিয়েছিল। আর সে কারণেই ‘আমরা একসঙ্গে সেটাকে (মহামারিকে) পরাজিত করেছি’, এমনটা উল্লেখ করে তিনি এবারের চিঠিতে লিখেছেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে আমি বিশ্ববাসীর প্রতি সেই একই আহ্বান জানাচ্ছি।’ মহামারির গতি রুখে দিতে এখনই সক্রিয় হতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে মহামারির প্রথম দিকে ত্রুটিবিচ্যুতি হয়েছে। এশিয়া থেকে ইউরোপ, আমেরিকা সব জায়গায়ই সেটা হয়েছে। যোগসূত্রটা বোঝা যায়নি। সময় নষ্ট হয়েছে। তথ্য গোপন করা হয়েছে, তথ্য প্রকাশে ঘাটতি রাখা হয়েছে এবং তথ্য বিকৃত করা হয়েছে। আস্থা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।’

করোনাভাইরাস মহামারির আতঙ্কে বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে ছোটাছুটি, আত্মগোপনপ্রবণতা, নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব কিছু মজুদ করা নিয়ে হুড়াহুড়ি পড়ে গেছে, গতকাল প্রকাশিত চিঠিতে সেসবও উল্লেখ করেন সারলিফ। তিনি বলেন, ‘আমি এসব জানি। ২০১৪ সালে আমিও একই ভুল করেছিলাম। আর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যারা তখন সাড়া দিয়েছিল, তারাও ভুল করেছিল। কিন্তু আমরা নিজেদের শুধরে নিয়েছিলাম এবং সেটা করেছিলাম আমরা সবাই।’

মহামারি রোধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ায় মানবজাতি যে ‘মারাত্মক সন্ধিক্ষণে’ পৌঁছেছে, সে ব্যাপারে তাঁর ভাষ্য, ‘বিষয়টাকে আমরা যেন ভুলভাবে না নিই। সীমান্ত বন্ধের মানে এই নয় যে আমাদের একা একা সব সামাল দিতে হবে, প্রত্যেক দেশকে নিজেদের মতো করে সব সামাল দিতে হবে।’ বরং সংকটের এ মুহূর্তে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, ওষুধসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় উপকরণ, এমনকি জনবল ভাগাভাগি করে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে এবং এসব ঘটনায় সারলিফ উজ্জীবিত হচ্ছেন। ‘অন্যের সেবায় উৎসর্গ জীবনই সার্থক জীবন—এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যের ওপর যে মানবজাতিকে আস্থা রাখতে হবে, সেটা প্রত্যেককে স্মরণ রাখার আহ্বান জানাচ্ছি আমি’, এমন বার্তা দিয়ে চিঠির ইতি টানেন নোবেলজয়ী সারলিফ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা