kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

করোনা-অপরাধী

মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি
বাড়ছে পারিবারিক সহিংসতা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাস মহামারির জেরে স্থবির বিশ্বে ভিন্ন আঙ্গিকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে অপরাধপ্রবণতা। নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, ইউরোপে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে পারিবারিক সহিংসতা।

মহামারি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ইউরোপজুড়ে জারি করা লকডাউনে ঘরে থাকতে থাকতে বাধ্য হচ্ছে কোটি কোটি মানুষ। লকডাউন শুরুর পর থেকে স্পেন ও সুইডেনে অপরাধপ্রবণতা তুলনামূলক কমলেও ইউরোপের বাকি দেশগুলোয় পরিস্থিতি ভিন্ন। সাধারণ চুরি-চামারি থেকে শুরু করে চোরাকারবারের ধরনে পরিবর্তন এনেছে অপরাধীরা।

এই যেমন জনগণের মধ্যে এখন যে করোনাভাইরাস আতঙ্ক বিরাজ করছে, সেটাকে পুঁজি করে নিম্নমানের মাস্কসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নকল পণ্য অনলাইনে বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। প্রতারণার ফাঁদ পেতে অর্থ আদায়েও তৎপর হয়ে উঠেছে একটি মহল।

ইউরোপোল শীর্ষক ইউরোপীয় পুলিশ সংস্থা গত শুক্রবার জানিয়েছে, মার্চের শুরুতে বিশ্বজুড়ে বড় পরিসরে অভিযান চালিয়ে ৩৪ হাজার নকল সার্জিক্যাল মাস্ক জব্দ করেছে পুলিশ।

ইউরোপোলের পরিচালক ক্যাথেরিক ডে বোলে বলেন, ‘অপরাধীরা স্রেফ একটা ব্যাপারে উৎসাহী—কিভাবে আরো বেশি অর্থের মালিক হওয়া যায়। এ জন্য তারা বৈশ্বিক মহামারিকে কাজে লাগিয়ে তাদের অপরাধের ধরন পাল্টাচ্ছে।’

অস্ট্রিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ল নেহাম্মের জানান, তাঁর দেশে বাড়িতে ঢুকে চুরির ঘটনা কমেছে, কিন্তু বেড়েছে সাইবার অপরাধ। ইউরোপজুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সাইবার অপরাধীরা।

এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) বলেছে, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় ও স্পর্শকাতর তথ্য চুরির ক্ষেত্রে ই-মেইলের ব্যবহার চরম বেড়েছে বলে তারা লক্ষ করেছে।

ই-মেইলব্যবস্থায় সক্রিয় হয়ে ওঠা অপরাধীদের ব্যাপারে ব্রিটেনের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি বলেছে, যারা অনলাইনে চিকিৎসা পণ্য কেনাকাটা করছে, তারাই অপরাধীদের মূল লক্ষ্য। জার্মানিও সাইবার অপরাধীদের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে।

করোনাভাইরাসে মৃতের দিক দিয়ে শীর্ষে থাকা ইতালিতে আশঙ্কার ধরন একটু ভিন্ন। দেশটিতে অর্থসংকটে থাকা খুদে ব্যবসায়ীরা নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থে মাফিয়ায় পরিণত হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ডেনমার্কে পুলিশ জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, করোনাভাইরাস পরীক্ষার নাম করে বা চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা বলে মাস্ক পরে চোররা ঘরে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে। বয়স্ক জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা আরো বেশি বলে জানিয়েছে তারা।

চুরি, পাচার, সাইবার অপরাধের পাশাপাশি যৌন হয়রানি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, ঘরে বসে টিভি বা কম্পিউটারের সামনে সময় কাটাতে থাকা তরুণ জনগোষ্ঠী যৌন হয়রানির শিকার হতে পারে।

পারিবারিক সহিংসতার ঘটনাও আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যেতে পারে এবং এর ইঙ্গিত এরই মধ্যে পাওয়া গেছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্তোফে কাস্তাঁয়ের জানিয়েছেন, লকডাউনের পর ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি পুলিশ স্টেশনে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগের হার ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

বাড়ছে সামাজিকতা পরিপন্থী আচরণও। অস্ট্রিয়া ও ব্রিটেনের পুলিশ জানিয়েছে, ওই দুটি দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে দাবি করে বিভিন্ন লোকের গায়ে থুতু ও কাশি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা