kalerkantho

বুধবার । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৭  মে ২০২০। ৩ শাওয়াল ১৪৪১

নাম-দায় নিয়ে দ্বন্দ্বযুদ্ধে বেইজিং-ওয়াশিংটন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নাম-দায় নিয়ে দ্বন্দ্বযুদ্ধে বেইজিং-ওয়াশিংটন

করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ন্ত্রণে চীনের সাফল্য হয়তো অনেক দেশকে পথ দেখাবে, কিন্তু মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পেছনে চীনের দায় নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা চলছেই। মহামারি নিয়ন্ত্রণের পর এবার সব ধরনের সমালোচনা নিয়ন্ত্রণে উঠেপড়ে লেগেছে চীন। আর তাতে ক্রমাগত বাগড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে করোনাভাইরাস সর্বপ্রথম মহামারি আকার ধারণ করে। চীন সরকার গত বছর ৩১ ডিসেম্বর উহানে অনেক লোকের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার খবর জানায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডাব্লিউএইচও)। এরপর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকে এবং বিশ্বজুড়ে মহামারি ছড়িয়ে পড়ে। চীনের পর ইতালি, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোটা হুবেই প্রদেশ ও উপদ্রুত বিভিন্ন এলাকা লকডাউন করে ফেলে চীন। প্রায় অচল হয়ে যায় চীনের বিশালকায় অর্থনীতি। এর সুফলও মিলেছে। এখন আর চীনে স্থানীয়ভাবে নতুন করে সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে না। যাদের দেহে ভাইরাস শনাক্ত করা হচ্ছে, তারা আসছে বাইরে থেকে।

চীন কঠোরতা দেখিয়েছে করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করার পর। অথচ চীনের বেশ কয়েকজন চিকিৎসক আগেই এ ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তাঁদের কথায় গুরুত্ব দেওয়ার পরিবর্তে তাঁদের শাস্তি দেওয়া হয়। চীনের এমন অপরিণামদর্শিতায় দেশের মানুষ তো বটেই, ভিন দেশের মানুষও ক্ষুব্ধ। গণক্ষোভ সামাল দিতে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের আশ্রয় নিচ্ছে সরকার। আর বিদেশে প্রচার চালানোর জন্য আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে ফেসবুক-টুইটারের মতো বহুল ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের, যেগুলো চীনে নিষিদ্ধ।

চলতি মাসের প্রথম দিক থেকেই চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা দাবি করছেন, করোনাভাইরাস উহানে প্রথম ছড়িয়ে পড়লেও ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল অন্য কোনো জায়গা এবং সম্ভবত সেটা যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর অক্টোবরে ‘মিলিটারি ওয়ার্ল্ড গেমস’ শীর্ষক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে উহানে গিয়েছিলেন মার্কিন বাহিনীর ক্রীড়াবিদরা। সেদিকে ইঙ্গিত করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র গত ১২ মার্চ টুইটারে লিখেছেন, মার্কিন সেনাবাহিনী সম্ভবত উহানে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছে।

এ ছাড়া বেইজিংভিত্তিক বিজ্ঞানী চেন শুইয়ান গত ১৮ মার্চ রাষ্ট্রায়ত্ব সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভিকে বলেন, কভিড ১৯ রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা যেভাবে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে করোনাভাইরাসের সঙ্গে তারা অনেক আগে থেকেই পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রই চীনে ভাইরাসটা ছড়িয়ে দিয়েছে, এমন তত্ত্বের ওপরও জোর দেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনবরত ‘উহান ভাইরাস’ শব্দযুগলের ব্যবহারকেও কাজে লাগাচ্ছে চীন। ওই অভিধা গোপন করার পরিবর্তে নিজেদের সংবাদমাধ্যমে বেশি বেশি প্রচার করছে চীন। ট্রাম্পের এমন মন্তব্য চীনা জনগণের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের মানুষকেও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিক্ষুদ্ধ করে তুলবে, এমন লক্ষ্য নিয়ে কাজ চালাচ্ছে বেইজিং।

জি-৭-এর যৌথ বিবৃতিতে জায়গা পায়নি ‘উহান ভাইরাস’ : যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টাও থেমে নেই। জি-৭ভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হয় গত বুধবার। বৈঠক শেষে প্রদেয় যৌথ বিবৃতিতে জোটের  বর্তমান সভাপতি যুক্তরাষ্ট্র ‘উহান ভাইরাস’ অভিধাটি লিখেছিল, যা প্রত্যাখ্যান করে বাকি সদস্যরা। এরপর জোটের সদস্যদের কেউ কেউ আলাদা বিবৃতি দেয়।

সূত্র : আলজাজিরা, সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা