kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কাবুলের অচলাবস্থা কাটার লক্ষণ নেই

মার্কিন সহায়তা হ্রাসে আফগানিস্তানে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না—ঘানি এমন দাবি করলেও পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, দাতাগোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল আফগান অর্থনীতির ওপর এটা বিরাট এক ধাক্কা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চূড়ান্তভাবে আফগানিস্তান ছাড়ার আগে সেখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টা সত্ত্বেও কোনো কাজ হচ্ছে না। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টায় কোনো কাজ না হওয়ায় দেশটিতে বিপুল অঙ্কের অর্থ সহায়তা কমিয়েছে মার্কিন সরকার। এর পরও কাবুলে নেতৃত্ব নিয়ে অচলাবস্থা নিরসনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

আফগানিস্তানে গত বছর সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন আশরাফ ঘানি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে নিজেকে বিজয়ী দাবি করেন এবং ঘানির পাশাপাশি তিনিও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।

ঘানি ও আব্দুল্লাহর এ দ্বন্দ্ব ২০১৪ সাল থেকে চলছে। তবে ওই সময় নির্বাচনের পর সৃষ্ট জটিলতা এড়াতে সরকারব্যবস্থায় প্রধান নির্বাহী পদ সৃষ্টি করে আব্দুল্লাহকে ওই পদে বসানো হয়। এবার সে রকম কিছু ঘটেনি এবং আব্দুল্লাহ নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।

অচলাবস্থা কাটাতে গত সোমবার কাবুলে আকস্মিক সফরে যান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। ঘানি ও আব্দুল্লাহর সঙ্গে তিনি আলাদাভাবে ও যৌথভাবে বৈঠক করেন। কিন্তু তাঁরা কোনো সমঝোতায় পৌঁছতে পারেননি। এ অবস্থায় সেদিনই পম্পেও সাংবাদিকদের জানান, আফগান সরকারকে প্রদেয় বার্ষিক সহায়তা থেকে ১০০ কোটি ডলার কাটছাঁট করা হবে। আগামী বছরও একই অঙ্কের অর্থ কেটে রাখা হবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে আফগানিস্তানের জন্য দাতাগোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয়সাধনেও যুক্তরাষ্ট্র কোনো ভূমিকা রাখবে না বলে জানিয়েছেন পম্পেও।

শীর্ষক মার্কিন কূটনীতিকের এ ঘোষণার পরও নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় কোনো অগ্রগতি দেখাননি ঘানি ও আব্দুল্লাহ। উল্টো পরদিন মঙ্গলবার টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ঘানি দাবি করেন, মার্কিন সহায়তা কমার কারণে আফগানিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো সরাসরি প্রভাবিত হবে না। তবে মার্কিন সরকারের সঙ্গে তিনি সমঝোতায় পৌঁছার চেষ্টা করবেন বলে জানান।

বিদ্যমান অচলাবস্থার জন্য আব্দুল্লাহকে দায়ী করে ঘানি জানান, আব্দুল্লাহকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি তা ফিরিয়ে দিয়ে সংবিধান পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। তবে কী ধরনের পরিবর্তনের দাবি উঠেছে, তা খোলাসা করেননি ঘানি।

মার্কিন সহায়তা হ্রাসে আফগানিস্তানে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না—ঘানি এমন দাবি করলেও পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, দাতাগোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল আফগান অর্থনীতির ওপর এটা বিরাট এক ধাক্কা। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের এশিয়া অংশের পরিচালক লরেল মিলার জানান, আফগানিস্তানকে প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র যে অর্থ দেয়, সেখান থেকে ১০০ কোটি ডলার কমিয়ে দেওয়ার মানে হলো ২০ শতাংশ কাটছাঁট। মার্কিন সহায়তা কমানোর কারণে আফগান সরকার নিরাপত্তা বাহিনীর বরাদ্দ কমাতে বাধ্য হবে বলে তাঁর অভিমত। শুধু তাই নয়, সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে আফগানিস্তান সরাসরি প্রভাবিত হবে না বলে যে দাবি ঘানি করেছেন, সেটা ‘চরম অবাস্তব’ মন্তব্য করেছেন মিলার।

সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য