kalerkantho

রবিবার  । ১৫ চৈত্র ১৪২৬। ২৯ মার্চ ২০২০। ৩ শাবান ১৪৪১

ইউরোপ অভিমুখী শরণার্থীদের জন্য সীমান্ত খুলল তুরস্ক

সিরিয়া যুদ্ধ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউরোপ অভিমুখী শরণার্থীদের জন্য সীমান্ত খুলল তুরস্ক

তুরস্ক-গ্রিস সীমান্তে জড়ো হওয়া ইউরোপমুখী অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সঙ্গে গতকাল গ্রিক পুলিশের সংঘর্ষ হয়। ইউরোপগামী লোকজনের ঢল আর ঠেকাবে না তুরস্ক—এমন ঘোষণা আসার পর সীমান্ত প্রহরা জোরদার করে গ্রিস সরকার। বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা জারি করার পর গতকাল তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ছবি : এএফপি

সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত ইদলিব প্রদেশের হাজারো শরণার্থী তুরস্ক হয়ে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। তুরস্ক বলেছে, চুক্তি অনুযায়ী এসব শরণার্থীর ইউরোপযাত্রা ঠেকাতে তারা বাধ্য নয়। এ কারণে তারা নিজেদের সীমান্ত খুলে দিয়েছে। ইদলিবে আসাদ বাহিনীর বিমান হামলায় ৩৩ তুর্কি সেনা নিহত হওয়ার পরদিন গতকাল শনিবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানাল আংকারা।

ইদলিবে রাশিয়া সমর্থিত আসাদ বাহিনীর সঙ্গে কয়েক দিন ধরেই তুর্কি সেনাদের লড়াই চলছে। এ অবস্থায় তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যে পুরোদমে যুদ্ধ বেধে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেক বিশ্লেষক। তুরস্কের সঙ্গে গ্রিস ও বুলগেরিয়ার সীমান্ত রয়েছে। শরণার্থীদের প্রবেশ ঠেকাতে এরই মধ্যে দুই দেশ সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। গ্রিস সীমান্তে শরণার্থীদের প্রবেশ ঠেকাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশটি সরকারবিরোধীদের সর্বশেষ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তুরস্ক সমর্থিত বিদ্রোহীদের হাত থেকে ইদলিব পুনর্দখলের চেষ্টা করছে আসাদ বাহিনী। বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হওয়ার কথা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্টনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সিরিয়ায় ‘বড়সড় যুদ্ধ’ বেধে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তুরস্ক এরই মধ্যে সিরিয়ার ৩৭ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। আফগানিস্তানের মতো আরো কয়েকটি দেশের হাজার হাজার শরণার্থীও সেখানে আছে। এ কারণে তুরস্ক নতুন কোনো শরণার্থীকে আশ্রয় না দিতে ইউরোপের সঙ্গে সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কাইরিয়াকোস মিতসোতাকিস বলেছেন, ‘উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শরণার্থী তুরস্ক হয়ে গ্রিস সীমান্তে জড়ো হয়েছে। কিন্তু গ্রিস সরকার অবৈধ কোনো অভিবাসীকে গ্রহণ করবে না।’

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট দপ্তরের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান ফাহরেতিন আলতুন বলেছেন, ‘শরণার্থী কেবল তুরস্কের সংকট নয়। এটি ইউরোপসহ গোটা বিশ্বের সংকট। সীমান্ত উন্মুক্ত করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। কারণ সিরীয় শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য আমরা পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাইনি।’ এর আগে আলতুন জানান, ইদলিবের প্রায় ১০ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে। এত মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার সক্ষমতা তুরস্কের নেই। সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানও। ইদলিবের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল প্রথমবারের মতো নিজের অবস্থান ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘গতকাল (শুক্রবার) আমরা কী করেছি? আমরা সীমান্ত খুলে দিয়েছি। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা