kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

ইদলিবে সিরিয়ার হামলায় তুরস্কের ৩৩ সেনা নিহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশের পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। গতকাল শুক্রবার সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় সেখানে অন্তত ৩৩ তুর্কি সেনা নিহত হয়েছে। তুরস্ক হুমকি দিয়েছে, তারা এই হামলার প্রতিশোধ নেবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান পরিস্থিতিতে ইদলিবে লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ছে।

এদিকে আসাদ বাহিনীর পক্ষে সিরিয়া উপকূলে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে রাশিয়া। অন্যদিকে আংকারা ঘোষণা দিয়েছে, সিরিয়ার শরণার্থীরা যাতে ইউরোপের দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে পারে, সে জন্য তুরস্কের সীমান্ত উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

রাশিয়ার ভাষ্য, ইদলিবের বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকায় তুর্কি সেনারা যে অবস্থান করছে, সে বিষয়টি আংকারার পক্ষ থেকে মস্কোকে জানানো হয়নি। তবে রাশিয়ার এই বক্তব্য অস্বীকার করেছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইদলিবে তুর্কি সেনারা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল। এর মধ্যে তাঁরা সিরিয়ার বিমান হামলার শিকার হয়।’

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেলের এক খবরে দাবি করা হয়েছে, ইদলিবে তুরস্কের সামরিক বিশেষজ্ঞরা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে সিরিয় ও রুশ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার চেষ্টা করেছিলেন।

২০১৬ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে সম্পৃক্ত হয় তুরস্ক। কিন্তু এই প্রথম একদিনে তাদের এত সেনার মৃত্যু হলো। তুরস্ক হুমকি দিয়েছে, তারা আসাদ বাহিনীর সম্ভাব্য সব স্থাপনায় হামলা চালাবে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট দপ্তরের জনসংযোগ দপ্তরের প্রধান ফাহরেতিন আলতুন গতকাল আলজাজিরাকে বলেন, ‘তুরস্ক যেদিন থেকে নিজেদের জনগণের ওপর সন্ত্রাসী হামলা শুরু করেছে, সেদিন থেকেই তারা মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের পাশাপাশি তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে অপরাধ করে যাচ্ছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস’ দাবি করেছে, গতকাল ইদলিবে তুরস্কের পাল্টা হামলায় সিরিয়ার ১৬ সেনা নিহত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সিরিয়া সরকারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কিংবা বিকল্প কোনো সূত্রের মাধ্যমেও ১৬ সেনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইদলিবের জনসংখ্যা ৩০ লাখের বেশি। একমাত্র এই অঞ্চলটি এখনো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি আসাদ বাহিনী। অঞ্চলটিকে সরকারবিরোধীদের সর্বশেষ ঘাঁটি হিসেবে দেখা হয়। রাশিয়া সমর্থিত সিরিয় সেনারা অভিযান চালালে সেখানকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চলমান সহিংসতায় গত ডিসেম্বর থেকে সেখানকার প্রায় ১০ লাখ মানুষ ভিটাছাড়া হয়েছে। এদের অর্ধেকের বেশি শিশু। এ ছাড়া চলতি মাসে ৪৪ শিশুসহ বেসামরিক ১৩৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

চলমান পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। উভয় পক্ষকে শান্তিচুক্তির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, অবিলম্বে যুদ্ধ না থামানো গেলে ইদলিবে ‘ভয়াবহ মানবিক সংকট’ তৈরি হতে পারে। এদিকে সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর গতকাল বৈঠকে বসার কথা। সূত্র : আলজাজিরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা