kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

তালেবানের সঙ্গে আলোচনাকারী ফৌজিয়া

কোনো শক্তি নারীকে ঘরে বন্দি করতে পারবে না

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোনো শক্তি নারীকে ঘরে বন্দি করতে পারবে না

ফৌজিয়া কুফি শৈশব থেকেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। আফগানিস্তানে নব্বইয়ের দশকে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর সে স্বপ্ন খান খান হয়ে যায়। প্রকাশ্য জীবন থেকে নারীকে ‘অদৃশ্য’ করে দেয় এই গোষ্ঠী। ফৌজিয়া এখন চিকিৎসক নন, রাজনীতিক। তালেবানের সঙ্গে আফগান সরকারের যে আলোচনা চলছে, তাতে প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। এ সপ্তাহের শেষ নাগাদ তালেবানের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি সই করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, ‘আমি ভয় পাই না। আমার জন্য শক্ত থাকা জরুরি। আমি আফগান নারীকে প্রতিনিধিত্ব করছি।’

তালেবানের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে ফৌজিয়া স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেন, ‘এখন থেকে ঠিক এক বছর আগে মস্কোতে প্রথমবারের মতো তাদের সঙ্গে বসি আমরা—আমি আর মানবাধিকারকর্মী লায়লা জাফারি।’ তিনি বলে চলেন, ‘মস্কোর ওই হোটেলকক্ষ তখন পুরুষে ঠাসা। অন্তত ৭০ জন ছিলেন ওই কক্ষে—তালেবান প্রতিনিধিদল এবং আফগান রাজনৈতিক ও মানবাধিকারকর্মী। এর মধ্যে আমরা দুজন মাত্র নারী। কক্ষে উপস্থিত তালেবান সদস্যরা অনেকেই আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। অনেকে নোট নিচ্ছিল। অনেকে আমাদের দিকে একেবারেই তাকায়নি।’

এর আগে কয়েক মাস ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের আলোচনা চলছিল। আলোচনায় তালেবান আফগান সরকারকে ‘পুতুল সরকার’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের সঙ্গে বসতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার চাপে তারা আফগান সরকারের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে বসে।

এই প্রতিনিধিদলেরই অংশ ছিলেন ফৌজিয়া ও লায়লা। তাঁরা আলোচনার সময় তালেবানকেও তাদের দলে নারী প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তোলেন। যদিও তালেবান এতে রাজি হয়নি। তাদের বক্তব্য ছিল, নারী দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে, তবে প্রেসিডেন্ট নয়। বিচারক হিসেবে নারীকে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। নারীকে অবশ্যই ইসলামী আইন ও আফগান সংস্কৃতির সীমার মধ্যে থেকে চলতে হবে।

২০০৫ সালে নির্বাচনের ঘোষণা দেয় আফগান সরকার। নির্বাচনে অংশ নেন ফৌজিয়া। পর পর দুবার নির্বাচিত হন তিনি। তিনি বলেন, ‘সবাই শান্তি চায়। শান্তি মানে সম্মান, ন্যায়বিচার আর স্বাধীনতার সঙ্গে বাঁচা। গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই।’ ফৌজিয়া মনে করেন, ‘নারীকে বহু কিছু হারাতে হয়েছে। আর না। কোনো শক্তি আমার মেয়ে এবং দেশের অন্য মেয়েদের ঘরে বন্দি করে রাখতে পারবে না। যে এ দেশে শাসন করতে আসবে তাকে বিষয়টি মনে রাখতে হবে।’ সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা