kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

অস্থির দিল্লিতে হতাহত, জ্বালাও-পোড়াও

দেখে বোঝার উপায় নেই কেমন ছিল স্কুলটি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দেখে বোঝার উপায় নেই কেমন ছিল স্কুলটি

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) সমর্থক ও বিরোধীদের সংঘর্ষকবলিত এলাকায় গতকাল সশস্ত্র পাহারা দেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। দিল্লিতে ছয় দিন ধরে চলছে সংঘর্ষ, মারা গেছে ৩৫ জন। ছবি : এএফপি

বই, পরীক্ষার খাতা, নথিপত্র, কম্পিউটার, স্কুল বাস—সব ছাই হয়ে গেছে। সব কিছু তছনছ করে দিয়ে গেছে উন্মত্ত লোকগুলো। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে অস্থির দিল্লির উত্তর-পূর্ব দিকে ব্রিজপুরী সড়কে অরুণ সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল দেখে এখন আর বোঝার উপায় নেই, স্কুলটির চেহারা ঠিক কেমন ছিল।

সিএএর সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে গত শনিবার রাত থেকে যে দাঙ্গা শুরু হয়েছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এর শিকার হয় ওই স্কুল। দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা শেষে সেদিন দুপুরের মধ্যেই সবাই স্কুল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। মানুষ বলতে ছিলেন কেবল একজন নিরাপত্তারক্ষী। চারপাশ থেকে প্রায় ২৫০-৩০০ লোককে ছুটে আসতে দেখে দিশাহারা হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। দেরি না করে তিনি স্কুলের পেছনের গেট দিয়ে পালিয়ে যান।

ক্রুদ্ধ লোকগুলো যেভাবে স্কুলে আগুন লাগিয়েছিল, তাতে দূর থেকেই আগুন চোখে পড়ছিল বলে জানান স্কুলের ক্যাশিয়ার নিতু চৌধুরী। আগুন দেওয়া হয়েছিল বিকেল ৪টায়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবরও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাত ৮টার আগে কোনো পক্ষই সেখানে পৌঁছতে পারেনি। কারণ পুরো দিল্লি তখন রণক্ষেত্র। সেই রণক্ষেত্র পেরিয়ে ফায়ার সার্ভিস স্কুলে আসতে আসতেই সব শেষ।

শত শত বই, নোটবই, পরীক্ষার খাতা, নথিপত্র—সব ছাই হয়ে গেছে। কম্পিউটারগুলোও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে সেগুলো কম্পিউটার কক্ষে স্তূপ করে রাখা হয়। পুড়ে কালো হয়ে গেছে স্কুল বাসটি। অগ্নিকাণ্ডের তিন দিন পরও কোনো জায়গায় ধিকিধিকি আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

শ্রেণিকক্ষ আর ক্যান্টিনেও সব তছনছ করে রেখে গেছে বিক্ষুব্ধরা। চিপসের প্যাকেটগুলো সব ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। শিক্ষকদের লকারগুলোও তছনছ করা হয়েছে। তাদের সব বই আর ফাইলপত্র মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।

স্কুলের অধ্যক্ষ ও ক্যাশিয়ার যখন পুরো স্কুল ঘুরে দেখাচ্ছিলেন, তখন কালো হয়ে যাওয়া দেয়ালগুলো আর মেঝেজুড়ে পুড়ে যাওয়া জিনিসপত্র দেখে কিছুতেই বোঝার উপায় ছিল না, কক্ষগুলো দেখতে কেমন ছিল। ১৮ বছর ধরে এ স্কুলে কাজ করছেন জানিয়ে নিতু চৌধুরী বলেন, ‘আজ দেখুন, কিচ্ছু নেই।’

সিএএ নিয়ে দিল্লির ভয়াবহ দাঙ্গার কারণে গত বুধবার অনেক জায়গায় দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয় সিবিএসই কর্তৃপক্ষ। দাঙ্গায় গত ছয় দিনের সংঘর্ষে ৩৫ জন নিহত ও দুই শতাধিক আহত হয়েছে। সূত্র : এনডিটিভি।

মন্তব্য