kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

করোনাভাইরাস ছড়ানো বন্য প্রাণীর সন্ধানে বিজ্ঞানীরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাস ছড়ানো বন্য প্রাণীর সন্ধানে বিজ্ঞানীরা

পশুপাখি থেকে কিভাবে মানুষের মধ্যে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ল, এর অনুসন্ধান চলছে। বিজ্ঞানীরা কিভাবে সে অনুসন্ধানকাজ করছেন তা জানার চেষ্টা করেছেন বিবিসির হেলেন ব্রিগস।

চীনের কোনো এলাকায় আকাশে উড়ে বেড়াতে বেড়াতে বাদুড় মলত্যাগ করল, যা পড়ছে বনের মধ্যে। এখন কোনো বন্য প্রাণী, ধরা যাক প্যাঙ্গোলিন, পাতার মধ্যে খাবার অর্থাৎ পতঙ্গের খোঁজে গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে ওই বাদুড়ের বিষ্ঠা থেকে ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে পড়ল। এ থেকে নভেল ভাইরাসটি বন্য প্রাণীর মধ্যে ছড়ায়। এরপর আক্রান্ত একটি প্রাণী মানুষের হাতে ধরা পড়ার পর সেটি মানুষের মধ্যে আসে, এরপর সেটি যায় পশুপাখি বিক্রি হয় এমন একটি বাজারের কর্মীদের মধ্যে। আর এভাবেই একটি বৈশ্বিক প্রাদুর্ভাব শুরু হয়ে গেল। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার এমনই একটি ঘটনাক্রম প্রমাণের জন্য বিজ্ঞানীরা ভাইরাস আক্রান্ত প্রাণী খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

লন্ডনের জুলজিক্যাল সোসাইটির অধ্যাপক অ্যান্ড্রু কানিংহ্যাম বলেন, ‘কোনো ঘটনার ধারাক্রম খুঁজে বের করাটা কিছুটা গোয়েন্দা গল্পের মতো।’ এতে কিছু বন্য প্রাণী, বিশেষ করে বাদুড়ের কয়েকটি প্রজাতি, যারা বিভিন্ন ধরনের করোনাভাইরাসের বাহক হতে পারে, তাদের চিহ্নিত করে অনুসন্ধান চালানো হবে।

বিজ্ঞানীরা যখন একজন রোগীর শরীর থেকে নতুন ভাইরাসের কোড শনাক্ত করতে সক্ষম হন, তখন থেকেই ভাইরাস ছড়ানোর জন্য সন্দেহের তীর ছোটে বাদুড়ের দিকে। স্তন্যপায়ী এই প্রাণী দল বেঁধে থাকে, অনেক দূর পর্যন্ত উড়ে যেতে পারে এবং পৃথিবীর সব অংশেই তাদের বিচরণ আছে। তারা প্রায় কখনোই অসুস্থ হয় না, কিন্তু দূর-দূরান্ত পর্যন্ত রোগের জীবাণু ছড়ায়।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক কেইট জোনস বলেন, বাদুড় দীর্ঘক্ষণ ওড়ার ক্ষমতা রাখে এবং ডিএনএর ক্ষতি সারিয়ে তোলার ক্ষেত্রেও অন্য পাখিদের চেয়ে তারা বেশি সক্ষম—এমন কিছু প্রমাণ তাঁরা পেয়েছেন।

ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যামের অধ্যাপক জোনাথন বল বলছেন, স্তন্যপায়ী প্রাণী হওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে সরাসরি অথবা মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কোনো প্রাণীর মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে বাদুড়।

কিন্তু ধাঁধার দ্বিতীয় অংশ হচ্ছে, কে সেই রহস্যময় প্রাণী যে নিজের শরীরে সেই ভাইরাসকে ডিমে তা দেওয়ার মতো পুষেছে এবং উহানের সেই বাজারে পৌঁছে দিয়েছে। আর এ ক্ষেত্রে সন্দেহভাজন প্রাণীটি হচ্ছে প্যাঙ্গোলিন।

বলা হয়, পিঁপড়াখেকো, শক্ত আঁশযুক্ত এই স্তন্যপায়ী প্রাণীটি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি পাচার হওয়া প্রাণী এবং প্রায় বিলুপ্তির পথে।

ঐতিহ্যবাহী চীনা ওষুধ তৈরিতে প্যাঙ্গোলিনের আঁশ ব্যবহার হয় বলে এশিয়াজুড়ে এর কদর। এ ছাড়া অনেকেই প্যাঙ্গোলিনের মাংস খেতে পছন্দ করে।

সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা