kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

গুলি বোমা আগুনে জ্বলছে দিল্লি নিহত ১৩, কারফিউ

সিএএ’র বিরোধী ও সমর্থকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



গুলি বোমা আগুনে জ্বলছে দিল্লি নিহত ১৩, কারফিউ

সিএএবিরোধী বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে জ্বলছে দিল্লির খাজুরি এলাকার দোকানপাট। গতকাল তোলা ছবি। ছবি : এএনআই

ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে (সিএএ) কেন্দ্র করে দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গতকাল মঙ্গলবারও বিক্ষোভ-সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। সিএএর বিরোধী এবং সমর্থকদের মধ্যে চার দিন ধরে চলা এ সংঘর্ষে এ পর্যন্ত এক পুলিশ সদস্যসহ ১৩ জনের প্রাণ গেছে। এর মধ্যে সোমবারই পুলিশসহ সাতজন নিহত হয়। গতকাল মৃতের সংখ্যা ১৩ তে পৌঁছায়। সংঘর্ষে আহত হয়েছে দেড় শতাধিক মানুষ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংঘর্ষকবলিত চারটি এলাকায় আগে থেকেই ১৪৪ ধারা জারি হয়েছিল। পাশাপাশি ‘দেখামাত্র গুলির’ নির্দেশও দেওয়া হয়। বন্ধ রাখা হয়েছে ওই এলাকার মেট্রো স্টেশনগুলো। পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় সন্ধ্যা থেকে সেখানে কারফিউও জারি করা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির সিবিএসই পরীক্ষা। তবে সংঘর্ষকবলিত এলাকায় সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিতর্কিত সিএএ নিয়ে রাজধানীর উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে দুই দিনের সফর শেষ করে গতকাল রাতে ভারত ছাড়েন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।

বিতর্কিত সিএএ নিয়ে দুই মাস ধরেই অস্থির গোটা ভারত। গত শনিবার রাতে দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জাফরাবাদে সিএএবিরোধী অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সেই অস্থিতিশীলতা নতুন মাত্রা পায়। সিএএবিরোধী আন্দোলনের বিপরীতে ওই আইনের সমর্থকরা রাস্তায় নামলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়। সোমবার পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মাঠে নামলে দুই পক্ষের মাঝখানে পড়ে ইট-পাটকেলের আঘাতে নিহত হন এক পুলিশ সদস্য। এর পর থেকে নিহতের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে গতকাল মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ১৩ জনে পৌঁছায়। আহত হয় দেড় শতাধিক মানুষ। বিবিসির সাংবাদিকের হিসাবে আহত মানুষের সংখ্যা ২০০ জনের কাছাকাছি। গুরুতর আহত যারা জিটিবি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে, গতকাল তাদের দেখতে যান দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তাঁর ডেপুটি মনীশ সিসৌদিয়া।

সংঘর্ষ চলাকালে সাংবাদিকরাও হামলার কবলে পড়েন। গতকাল সকালে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে মারাত্মক পিটুনির শিকার হন স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির দুজন সাংবাদিক। এ ছাড়া ছবি তোলা ও সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হুমকি ও বাধার মুখে পড়েন অন্য সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও।

ঘটেছে জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনাও। গতকাল সকালে মৌজপুর এবং ব্রহ্মপুরীতে সিএএর সমর্থক ও বিরোধীদের সংঘর্ষের সময় জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল, ভাঙচুর করা হয় একটি ই-রিকশা। যাত্রীদের কাছ থেকে লুটে নেওয়া হয় মূল্যবান জিনিস। দুপুরে গুলিও চলে সেখানে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ) সংঘর্ষে লিপ্ত উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। মৌজপুর ও ব্রহ্মপুরীর পাশাপাশি ভজনপুরার, চাঁদবাগ, জাফরাবাদ, কদমপুরী, গোকুলপুরী, খাজুরী ও কারাওয়াল নগরেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গতকাল দফায় দফায় বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় সরকার, স্থানীয় সরকার, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেন দিল্লির মুখমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। বৈঠকে কেজিরওয়ালকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। তবে সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা তিনি নাকচ করে দিয়েছেন।

এদিতে গত সোমবারের সহিংসতার ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন (এফআইআর) দাখিল করতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছেন মুখ্য তথ্য কমিশনার ওয়াজাহত হাবিবুল্লা। আজ বুধবার তাঁর সেই আবেদনের শুনানি করবেন শীর্ষ আদালত। অন্যদিকে গোটা ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী সংস্থা (সিট) আনা নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে আরো কয়েকটি আবেদনের শুনানি হবে আজ। সিএএ তুলে নেওয়া সংক্রান্ত শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদের তরফে যে দুটি আবেদন জমা পড়েছে, আজ সেটারও শুনানি করবেন শীর্ষ আদালত। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, বিবিসি, আনন্দবাজার।

ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গতকাল মঙ্গলবারও বিক্ষোভ-সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। চার দিনের এ সংঘর্ষে এরই মধ্যে এক পুলিশ সদস্যসহ ১০ জনের প্রাণ গেছে। আহত হয়েছে দেড় শতাধিক মানুষ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি রাখা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে ওই এলাকার মেট্রো স্টেশনগুলো। তবে সেখানে সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিতর্কিত সিএএ নিয়ে রাজধানীর এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে দুই দিনের সফর শেষ করে গতকাল রাতে ভারত ছাড়েন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।

বিতর্কিত সিএএ নিয়ে দুই মাস ধরেই অস্থির গোটা ভারত। গত শনিবার রাতে দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জাফরাবাদে সিএএবিরোধী অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সেই অস্থিতিশীলতা নতুন মাত্রা পায়। সিএএবিরোধী আন্দোলনের বিপরীতে ওই আইনের সমর্থকরা রাস্তায় নামলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়। সোমবার পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মাঠে নামলে দুই পক্ষের মাঝখানে পড়ে ইট-পাটকেলের আঘাতে নিহত হন এক পুলিশ সদস্য। এর পর থেকে নিহতের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে গতকাল মঙ্গলবার ১০ জনে পৌঁছায়। আহত হয় দেড় শতাধিক মানুষ। বিবিসির সাংবাদিকের হিসাবে আহত মানুষের সংখ্যা ২০০ জনের কাছাকাছি। গুরুতর আহত যারা জিটিবি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে, গতকাল তাদের দেখতে যান দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তাঁর ডেপুটি মনীশ সিসৌদিয়া।

সংঘর্ষ চলাকালে সাংবাদিকরাও হামলার কবলে পড়েন। গতকাল সকালে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে মারাত্মক পিটুনির শিকার হন স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির দুজন সাংবাদিক। এ ছাড়া ছবি তোলা ও সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হুমকি ও বাধার মুখে পড়েন অন্য সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও।

ঘটেছে জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনাও। গতকাল সকালে মৌজপুর এবং ব্রহ্মপুরীতে সিএএর সমর্থক ও বিরোধীদের সংঘর্ষের সময় জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল, ভাঙচুর করা হয় একটি ই-রিকশা। যাত্রীদের কাছ থেকে লুটে নেওয়া হয় মূল্যবান জিনিস। দুপুরে গুলিও চলে সেখানে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‌্যাফ) সংঘর্ষে লিপ্ত উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। মৌজপুর ও ব্রহ্মপুরীর পাশাপাশি গতকাল ভজনপুরার, চাঁদবাগ, জাফরাবাদ, কদমপুরী, গোকুলপুরী, খাজুরী ও কারাওয়াল নগরেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গতকাল দফায় দফায় বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় সরকার, স্থানীয় সরকার, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেন দিল্লির মুখমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। বৈঠকে কেজিরওয়ালকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। তবে সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা তিনি নাকচ করে দিয়েছেন।

এদিতে গত সোমবারের সহিংসতার ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন (এফআইআর) দাখিল করতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছেন মুখ্য তথ্য কমিশনার ওয়াজাহত হাবিবুল্লা। আজ বুধবার তাঁর সেই আবেদনের শুনানি করবেন শীর্ষ আদালত। অন্যদিকে গোটা ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী সংস্থা (সিট) আনা নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে আরো কয়েকটি আবেদনের শুনানি হবে আজ। সিএএ তুলে নেওয়া সংক্রান্ত শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদের তরফে যে দুটি আবেদন জমা পড়েছে, আজ সেটারও শুনানি করবেন শীর্ষ আদালত। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, বিবিসি, আনন্দবাজার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা