kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

মাচারের শপথ শান্তির পথে দক্ষিণ সুদান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শান্তিচুক্তির শর্তানুযায়ী দক্ষিণ সুদানের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শনিবার শপথ নিয়েছেন বিদ্রোহী নেতা রিয়েক মাচার। এর মাধ্যমে দেশটিতে ছয় বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের ইতি টেনে বিদ্রোহীরা আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হলো। তিন বছরের জন্য তারা একসঙ্গে কাজ করবে।

বিদ্রোহী নেতার সঙ্গে সরকারের এই চুক্তিকে মানবাধিকার গ্রুপ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং জাতিসংঘের শরণার্থী প্রধান স্বাগত জানিয়েছেন। ইইউ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সামনে বড় সব চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার ঘটনাকে সুদানের প্রেসিডেন্ট সালভা কির স্বাগত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরোধের কারণে এক বছরেরও বেশি সময় পর নতুন সরকার গঠন করা হয়েছে। এখন শান্তির বিষয়টি অপরিবর্তনীয়।’

মাচার ও কির এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো দেশ শাসনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। সরকার গঠন বিষয়ে উভয়ের মধ্যে এখনো বেশ কিছু বিষয় নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। শপথগ্রহণ এবং কিরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর মাচার বলেন, ‘দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের আমি নিশ্চিত করে বলতে চাই—আপনাদের দুর্দশা অবসানে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’

এদিকে প্রেসিডেন্ট কির বলেন, ‘আমরা অবশ্যই একে অন্যকে ক্ষমা করে দেব এবং আবার আমরা বন্ধু হব। আমি দিনাক ও নিউয়েরের জনগণের প্রতি অনুরোধ করব, তারা যেন একে অন্যকে ক্ষমা করে দেয়।’

২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কির ও মাচারের মধ্যে তিক্ততা শুরু হলেও ২০১৩ সালে মাচারকে বরখাস্ত করেছিলেন কির। পরে তিনি মাচারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানচেষ্টার অভিযোগ আনেন। এর ফলে কিরের দিনকা ও মাচারের নিউয়ের সম্প্রদায়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। ২০১৫ সালের শান্তিচুক্তি অনুযায়ী মাচার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। সে সময় তিনি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মাঝে জুবায় এসেছিলেন। কিন্তু পরের বছর জুলাই মাসে বিদ্রোহী সেনা সদস্য ও মাচারের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী এক লড়াই শুরু হয়। সে সময় মাচার হেঁটে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।

দক্ষিণ সুদানে ছয় বছরের যুদ্ধে তিন লাখ আশি হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। চল্লিশ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তাদের মধ্যে অর্ধেকই পাশের দেশগুলোয় আশ্রয় নিয়েছে। দেশটির অর্ধেকেরও বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষে ভুগছে। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা