kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

সিম্পসনের পথে মেগান!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিম্পসনের পথে মেগান!

ব্রিটেনের এক রাজপুত্র ছিলেন—দুষ্টু, ছটফটে, চঞ্চল। এক মার্কিন নায়িকার প্রেমে পড়লেন তিনি। মেয়েটি দৃঢ়চেতা, স্বনির্ভর, ব্যক্তিত্বময়ী। প্রণয় গড়াল পরিণয়ে। এরপর স্ত্রীর মর্যাদা আর সম্মান রক্ষায় রাজপরিবার ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন রাজপুত্র। এটা আধুনিক প্রেমকাহিনি হ্যারি-মেগানের। ব্রিটিশ রাজপরিবারে অবশ্য এর চেয়েও বিস্ফোরক প্রেমকাহিনি আছে। যেখানে পরিবার নয়, বরং সিংহাসনই ছেড়ে গিয়েছিলেন রাজা।

রাজার নাম অষ্টম এডওয়ার্ড। দু-দুবার বিয়েবিচ্ছেদ হওয়া নারী ওয়ালিস সিম্পসনের প্রেমে পড়েছিলেন তিনি। ব্রিটিশ রাজপরিবারে ঘটে যাওয়া সে কাহিনির পুনরাবৃত্তিই যেন দেখা যাচ্ছে প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলের মধ্যে। যুক্তরাজ্যের বৈরী গণমাধ্যমের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁদের। এ কালের ব্রিটিশ রাজপরিবারে হ্যারি ও মেগানের কাহিনি আট দশক আগের সেই অষ্টম এডওয়ার্ড ও ওয়ালিস সিম্পসনের কাহিনির সঙ্গে মিল দেখছেন কেউ কেউ। সে সময় তাঁদের দুজনকে যে ঝড়ঝাপ্টার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল, এর সঙ্গে হ্যারি-মেগানের কি তুলনা চলে? ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স যদি তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন, তবে তা মিলে যায়।

১৯৩৬ সালের ডিসেম্বরে দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করতে চলা এক নারীকে বিয়ের জন্য সিংহাসন ছেড়েছিলেন রাজা। যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের সদস্য হতে ওয়ালিস সিম্পসনকে নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তাঁকে বিভিন্নভাবে গণমাধ্যম আক্রমণ করা হয়।

‘দ্যট ওম্যান : দ্য লাইফ অব ওয়ালিস সিম্পসন’ বইয়ের লেখক অ্যান সেবা বলেন, রাজকীয় দায়িত্ব থেকে হ্যারি ও মেগানের সরে দাঁড়ানোর ঘটনাটি কোনোভাবেই সিম্পসনের সাংবিধানিক ঝড় তোলা ঘটনার কাছাকাছিও নয়। সিম্পসনকে ব্রিটিশ রাজতন্ত্র ও সাম্রাজ্য ধ্বংস করার অভিযোগে অভিযুক্ত হতে হয়েছিল। সেবা বলেন, ‘আমরা এখন ১৯৩৬ সালে বাস করছি না, যখন মানুষ বিবাহবিচ্ছেদ ঘটানো নারীকে দেখে আঁতকে উঠত। তারা ভাবত, এতে দুর্বল সমাজ গড়ে উঠবে, যেখানে সবাই বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাবে। তবে সত্যিকারের পার্থক্য হলো এডওয়ার্ড রাজা ছিলেন আর হ্যারি রাজা হওয়ার দৌড়ে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছেন। তিনি কখনো রাজা হতে পারবেন না।’

হুগো ভিকারসের লেখা বায়োগ্রাফি ‘বিহাইন্ড ক্লোজড ডোরস, দ্য ট্র্যাজিক আনটোল স্টোরি অব ওয়ালিস সিম্পসন’ অনুসারে রানি একবার বলেছিলেন, তাঁর জীবনে সবচেয়ে বেশি সমস্যা সৃষ্টি করেছিলেন ওয়ালিস সিম্পসন ও হিটলার।

প্রিন্সেস মার্গারেট (বর্তমান ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ছোট বোন) তাঁর চাচার প্রেমিকা সম্পর্কে মন্তব্য করেন, ‘ভয়ানক এক নারী।’

রাজাকে চুরি করে নেওয়া নারী হিসেবে সিম্পসনকে বর্ণনা করা হলেও এডওয়ার্ড সব সময় রাজকীয় দায়িত্বে নিজের মধ্যে ক্লান্তি খুঁজে পেয়েছিলেন। মেগান ও হ্যারির মতোই তিনিও কানাডায় পালানোর স্বপ্ন দেখতেন। সিম্পসন ও রাজা অষ্টম এডওয়ার্ড নানা সমালোচনা ও বাজেকথা থেকে মুক্তি পেতে শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সে স্থায়ী হন। সেখানে হ্যারি ও মেগান কানাডায় স্থায়ী হতে চাচ্ছেন।

তবে মেগান যেখানে সফল অভিনেত্রী, সমাজকর্মী ও লাইফস্টাইল ব্লগার হিসেবে খ্যাত সেখানে সিম্পসন তাঁর জীবনে কোনো চাকরি করেননি। ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অলিভেট ওটেল বলেন, একজন ছিলেন কেতাদুরস্ত, আরেকজন স্বাধীন ও সফল নারী, যিনি নিজের আয়ে চলতে জানেন। ডাচেস অব সাসেক্সের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আক্রমণ করা হয়েছে, তাই তাঁদের দুজনকে মেলানো যাবে না। ওটেল বলেন, ওয়ালিস সিম্পসনকে অবশ্যই ব্রিটিশ গণমাধ্যমে খারাপভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। তবে তা মেগানের মতো নয়। ওই তুলনায় মেগান প্রশ্নে ব্রিটিশ গণমাধ্যম অনেকটাই নমনীয়। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা