kalerkantho

বুধবার । ২৫ চৈত্র ১৪২৬। ৮ এপ্রিল ২০২০। ১৩ শাবান ১৪৪১

আফগানদের স্বপ্ন পূরণের যাত্রা শুরু

তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক সপ্তাহের অস্ত্রবিরতি কার্যকর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আফগানদের স্বপ্ন পূরণের যাত্রা শুরু

আফগানিস্তানে তালেবানের সঙ্গে অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গতকাল কান্দাহারে নেচে-গেয়ে মানুষ উল্লাস করে। ছবি : এএফপি

এক সপ্তাহ সহিংসতা থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান তালেবান যে চুক্তি করেছে, তা কার্যকর হয়েছে। আফগানিস্তানের স্থানীয় সময় অনুযায়ী গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকে অস্থায়ী এই চুক্তি কার্যকর হয়। স্থানীয়রা স্বপ্ন দেখছে, অস্থায়ী এই চুক্তির হাত ধরে তারা শিগগিরই স্থায়ী একটা শান্তিচুক্তি দেখতে পাবে।

২০০১ সালে টুইন টাওয়ারে হামলার ঘটনার পর থেকেই আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শান্তিচুক্তির মাধ্যমে এই যুদ্ধের ইতি টানতে তালেবানের সঙ্গে এক বছরের বেশি সময় ধরে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, এক সপ্তাহ সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। গত ১৯ বছরে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের চুক্তি হলো।

শুক্রবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হলেও গতকাল অন্তত দুটি বিচ্ছিন্ন হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলীয় বাল্ক প্রদেশে আফগান সেনাবাহিনীর আঞ্চলিক সদর দপ্তরে তালেবানের হামলায় দুই সেনা নিহত হয়েছে। হামলার খবর পাওয়া গেছে মধ্যাঞ্চলীয় উরুজগান প্রদেশেও।

তবে অস্থায়ী এই চুক্তিকে স্থায়ী শান্তিচুক্তির পূর্ববর্তী ধাপ হিসেবে দেখছে আফগানরা। রাস্তায় নেচে-গেয়ে অস্থায়ী এই চুক্তিকে উদ্যাপনও করছে তারা। উদ্যাপনের রেশ আছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

রাজধানী কাবুলের ট্যাক্সিচালক হাবিব উল্লাহ বলেন, ‘আজ সকালে গাড়ি চালানোর সময় জীবনে প্রথমবারের মতো মনে হয়েছে, কেউ আমাকে বোমা মেরে হত্যা করবে না। আমি চাই, আজীবন এমন পরিস্থিতি বিরাজ করুক।’

আফগানিস্তানের জনপ্রিয় কবি রামিন মজহার বলেন, ‘গত ১৫ বছর এখানকার সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে রাস্তায় চলাচল করতে পারেনি। তালেবানরা তাদের থামিয়েছে, হত্যা করেছে কিংবা অপহরণ করে নিয়ে গেছে।’ এক সপ্তাহের চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সহিংসতা বন্ধ হয়ে গেলে আমি সবার আগে নুরিস্তান যাব। আমি সেখানে গিয়ে দৌড়াব, হাসব, গাইব, নাচব, চিৎকার করব এবং ঘোল খাব।’

আফগানিস্তানের যেসব প্রদেশ পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য ছিল, নুরিস্তান সেগুলোর একটি। একসময় আফগানিস্তানের অর্থনীতিও ছিল পর্যটননির্ভর। কিন্তু গত শতাব্দীর আশির দশকে সোভিয়েত অভিযানের পর থেকে দেশটির পর্যটনশিল্পে ধস শুরু হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র হামলা শুরু করলে সেটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।

আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক এলাকায় তালেবানের নিয়ন্ত্রণ কিংবা আধিপত্য রয়েছে। দেশটিতে এমন এলাকা খুব কমই রয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে যেতে পারে। মহাসড়ক কিংবা শহরের সংযোগ সড়কগুলোতে যাত্রীদের হত্যা কিংবা অপহরণ করা নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিমানে যাতায়াতের ব্যবস্থা খুবই সীমিত, আফগানদের জন্য ব্যয়বহুলও।

আফগানিস্তানের পাহাড়ি প্রদেশ হিসেবে পরিচিত বাদাখশান। এর অবস্থান একেবারে তাজিকিস্তানের সীমান্ত ঘেঁষে। ওই প্রদেশের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ জাহিদ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমি বন্ধুদের প্রতিজ্ঞা করেছি যে একদিন তাদেরকে বাদাখশানে নিয়ে আসবই। আর এই প্রতিজ্ঞা আমি পালন করব একটা স্থায়ী শান্তিচুক্তি হওয়ার পর।’

ধারণা করা হচ্ছে, ২৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের শান্তিচুক্তি হতে পারে। ওই চুক্তি হলে আফগানিস্তান থেকে সব সেনা (১৩ হাজার) প্রত্যাহার করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। এর বিনিময়ে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেবে তালেবান।

সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা