kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

ইরানে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ

রক্ষণশীলদেরই আধিপত্য ভোটারদের আগ্রহ কম

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে গতকাল শুক্রবার ইরানে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট নেওয়া হয়েছে। দেশব্যাপী ৩১টি প্রদেশের ২৯০টি আসনে ১৬ হাজার ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের পর দেশটিতে একাদশ সংসদীয় নির্বাচন এটি। তবে এবারের নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের আগ্রহ কম।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটে রক্ষণশীল দলগুলোরই আধিপত্য বেশি থাকবে। অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির রক্ষণশীল দলের জয়ের সম্ভাবনা বেশি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সবাইকে দল বেঁধে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ভোটারদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘এটি তাঁদের ধর্মীয় দায়িত্ব’। একই কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তিনি বলেন, ‘ভোট ইরানকে শক্তিশালী ও সংঘবদ্ধ করবে। আমরা বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও বিশ্বব্যাপী চাপের মধ্যে রয়েছি। আমাদের এই নিষেধাজ্ঞা ভাঙতে হবে এবং নাগরিকদের জীবনযাপনের মান উন্নত করতে হবে।’

৩৮ বছর বয়সী আমির মোহতাশাম বলেন, ‘ইরানের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে দেশটিতে স্থিতি ও শান্তি নেই। আমাদের নির্বাচন অনেকটাই মূল্যহীন। এমনকি বর্তমান সংসদের ৯০ জন প্রতিনিধি রয়েছেন যাঁদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছে।’ মোহাম্মদ নামের এক ভোটার বলেন, ‘অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমরা রুহানিকে ভোট দিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা কিছু পাইনি। সুতরাং আমার মনে হয়, ভোট নিয়ে লোকজন আর তেমন কোনো স্বপ্ন দেখে না।’ ফ্যাশন ডিজাইনার পারি আগহাজাদেহ বলেন, ‘আমি ভোট দেব না। কারণ ভোটে আমাদের সমস্যার কোনো সমাধান হবে না। এই নির্বাচন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা। দেশের জনগণ তাঁদের পছন্দ করে এটাই তাঁরা নির্বাচনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে চান। অথচ বিষয়টি এমন নয়।’

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ দেশকে পরমাণু চুক্তি থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থা আরো নাজুক হয়েছে। ইরানের নির্বাচনে মার্কিন প্রশাসন গভীর নজর রেখেছে। এক বিবৃতিতে দেশটির অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মিনুচিন বলেন, ‘নির্বাচনে কোনোরূপ কারচুপি হলে ট্রাম্প প্রশাসন মেনে নেবে না।’ ইরানের আগের ১০টি নির্বাচনে গড়ে ৬০.৫ ভাগ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা