kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

ট্রাম্পের সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীদের ক্ষমা করে দেওয়ার হার বাড়ছে

হুমকির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হুমকির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচারক এবং আইনজীবী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন! যুক্তরাষ্ট্রের নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থার ওপর তাঁর এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে প্রগাঢ় ছায়া ফেলবে। সংবিধান লঙ্ঘন না করেই তিনি নিজের ক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করছেন, যা এর আগে কখনোই কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট করেননি। এটা বিচারব্যবস্থার পক্ষেও এটি অশনিসংকেত।

ট্রাম্প গত মঙ্গলবার এক টুইটে বলেন, ‘আমি প্রকৃতপক্ষে এ দেশের প্রধান আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা।’ ঘোষণা আসার আগেই অবশ্য ট্রাম্প শাস্তিপ্রাপ্ত বেশ কয়েকজন আসামিকে মাফ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। বাস্তবতা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের প্রধান ট্রাম্প। তবে যে বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তার হিসেবে তিনি নিজেকে দাবি করছেন তার প্রধান হচ্ছেন উইলিয়াম বার। অ্যাটর্নি জেনারেল বার ট্রাম্পের নিয়োগ করা কর্মকর্তা। গত এক বছরের একটু বেশি সময় ধরে এ পদে তিনি কাজ করছেন। কখনোই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর কোনো বচসার কথা শোনা যায়নি। তবে গত সপ্তাহে তাঁকে বসিয়ে রেখে ট্রাম্প যেভাবে একের পর এক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে মাফ করে দিচ্ছিলেন তাতে যথেষ্টই অপদস্থ হয়েছেন বার। ট্রাম্প অবশ্য শুরু অপরাধীদের মাফ করে দেওয়ার মধ্যেই তাঁর তৎপরতা সীমিত রাখেননি। তিনি গত সপ্তাহে এক টুইটে বলেছেন, তিনি এমন কিছু করবেন যে বারের পক্ষে কাজ করে যাওয়াই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। সব মিলিয়ে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন বার। যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তেমন কিছু করার নিয়ত বারের নেই।

ট্রাম্প গত মঙ্গলবার ইলিনয়েসের সাবেক গভর্নর রব ব্লাগোজেভিচের কারাদণ্ড মওকুফ করেন। ব্লাগোজেভিচের বিরুদ্ধে অন্য কয়েকটি অপরাধসহ সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সিনেট আসনটি নিয়ে বাণিজ্য করার অভিযোগ ছিল। এর আগে তিনি কর জালিয়াতির অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত নিউ ইয়র্কের সাবেক পুলিশ কমিশনার বার্নি কেরিককে ক্ষমা করে দেন। একই অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত মাইকেল মিলকেনকেও ক্ষমা করে দেন তিনি। ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকেই এই কাজটি করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবিধান তাঁকে এই এখতিয়ার দিয়েছে। যেমন এই সুযোগ ভোগ করেছেন তাঁর পূর্বসূরিরা। তবে তাঁরা কেউই ক্ষমতাগ্রহণের শুরু থেকেই এর প্রয়োগ করেননি। তাঁরা এ ক্ষমতার প্রয়োগ করেছেন ওভাল অফিস ছাড়ার আগে।

ট্রাম্পকে দুশ্চিন্তার প্রধান কারণ হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় তাঁর এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও উপদেষ্টা রজার স্টোনের বিরুদ্ধে কয়েক দিনের মধ্যেই রায় দিতে যাচ্ছেন আদালত। স্টোনের বিরুদ্ধে মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের তদন্ত চলাকালে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়াসহ সাতটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, স্টোনের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে প্রেসিডেন্ট ক্ষমা করে দেবেন। অর্থাৎ প্রেসিডেন্টের ক্ষমা পাওয়ার ক্ষেত্রে তখন রাজনীতিই হয়ে যাবে মুখ্য বিষয়। স্টোনের বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যে ট্রাম্প অবশ্য এরই মধ্যে হস্তক্ষেপ করেছেন। তাঁর তৎপরতার কারণে বিচার চলাকালে সরকার পক্ষের অন্তত চারজন আইনজীবী মামলা ছেড়ে দেন।

এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট কোনো ক্ষমা ঘোষণার ব্যাপারেই কোনো ব্যাখ্যা দেননি। হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিচার অন্যায় ছিল এবং অতিরিক্ত সাজা দেওয়া হয়েছে। কাজেই ধরে নেওয়া যায় ট্রাম্প বন্ধু স্টোনের ব্যাপারেও এ ব্যাখ্যার অতিরিক্ত কোনো বক্তব্যের মধ্যে যাবেন না। মার্কিন বিচার বিভাগের সাবেক আইনজীবী রেনাতো মারিওত্তি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বুঝতে পারছেন তিনি কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই যা খুশি তা-ই করতে পারেন।’ তাঁর বক্তব্যের সমর্থনই যেন করে ট্রাম্পের টুইট, ‘পূর্ণ হস্তক্ষেপের অধিকার আমাকে দেওয়া হয়েছে।’

বিচার বিভাগেও এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। বর্তমানরা শাস্তির ভয়ে মুখ না খুললেও সাবেক দুই হাজার আইনজীবী এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এ ধরনের ভূমিকার প্রতিবাদে বারকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিচারকদের একটি দল বিচারব্যবস্থায় প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপ এবং এর রাজনীতিকরণ নিয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লক্ষ্য একটাই—বিচারব্যবস্থাকে ট্রাম্পের রাজনীতি থেকে বাঁচাতে হবে। সূত্র : সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা