kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

উইঘুরদের ওপর নির্যাতনের নতুন তথ্য ফাঁস

ইন্টারনেট ব্যবহারও ‘বড় অপরাধ’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইন্টারনেট ব্যবহারও ‘বড় অপরাধ’

চীন সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু উইঘুরদের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ বহু পুরনো। কিন্তু এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর নতুন দলিল ফাঁস হয়েছে। শিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর সম্প্রদায়ের প্রায় তিন হাজার সদস্যের দৈনন্দিন জীবনের যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য চীন সরকার কিভাবে সংরক্ষণ করে, তা এসব দলিলে উঠে এসেছে। কী কী ‘অপরাধে’ উইঘুরদের বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়, তাও উল্লেখ আছে এসব দলিলে।

১৩৭ পৃষ্ঠার দলিলটি হাতে পেয়েছে বিবিসি, বার্তা সংস্থা এপিসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম। তাতে দেখা গেছে, প্রত্যেক পৃষ্ঠায় কলাম ও সারি এঁকে উইঘুরদের তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে—কে কয় ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, কী ধরনের পোশাক পরে, কার কার সঙ্গে মেলামেশা করে, ইন্টারনেটে কোন ধরনের বিষয়বস্তু দেখে, পরিবারের সদস্যদের আচার-আচরণ কেমন ইত্যাদি।

গত বছরও উইঘুরদের ওপর নির্যাতন চালানোর নথি ফাঁস হয়েছিল। বলা হচ্ছে, গত বছর যে সূত্রের মাধ্যমে নথি ফাঁস হয়েছিল, সেই একই সূত্র এবারও নথি ফাঁস করেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এবার যেসব নথি সামনে এসেছে, সেগুলোর সত্যতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

উইঘুরদের বিষয়ে চীনা নীতির বিশ্লেষক এবং ওয়াশিংটনভিত্তিক সংগঠন ‘ভিক্টিমস অব কমিউনিজম মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন’-এর গবেষক ড. আদ্রিয়ান জেনজ বলেন, ‘চীন কিভাবে ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করছে, এসব নথি তার শক্তিশালী প্রমাণ।

নতুন দলিলে দেখা গেছে, উইঘুর সম্প্রদায়ের ৩১১ সদস্যের যাবতীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। যেমন—তাদের অতীত কর্মকাণ্ড, ধর্মীয় আচার-আচরণ এবং প্রতিবেশী, বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্ক।

৩১১ জনই কারাকাস কাউন্টির বাসিন্দা। প্রতি কলামের একেবারে শেষ সারিতে গিয়ে এই ৩১১ জনের বিষয়ে নানা ধরনের সুপারিশ করা হয়েছে। যেমন—বন্দিশালার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আরো আটকে রাখতে হবে, নাকি ছেড়ে দেওয়া যাবে, নাকি ছেড়ে দেওয়া কাউকে আবার বন্দিশালায় আনতে হবে।

জিনজিয়াংয়ে এ ধরনের অনেক বন্দিশালা রয়েছে। চীন সরকার দাবি করে আসছে, এগুলো এক ধরনের স্কুল। কিন্তু নতুন দলিল ফাঁস হওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের ওই দাবি অনেকটাই ভিত্তিহীন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নতুন দলিলের ৫৯৮ নম্বর সারি যাঁকে নিয়ে লেখা, তিনি একজন নারী। হেলচেম (৩৮) নামের ওই নারীকে আটকে রাখার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি কয়েক বছর আগে বোরকা পরতেন। অনেকের ক্ষেত্রে আবার কারণ হিসেবে লেখা রয়েছে যে তারা দেশের বাইরে যেতে ভিসার আবেদন করেছিল।

কারণ ছাড়াও আটকে রাখার উদাহরণ মিলেছে নতুন দলিলে। যেমন ৬৬ নম্বর কলামে মেমেত্তি নামের এক যুবক সম্পর্কে লেখা রয়েছে, ‘বাস্তব কোনো ঝুঁকি নেই।’ আবার ২৩৯ নম্বর সারিতে নুরমেমেত নামের এক যুবক সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় ভুল করে একটি বিদেশি ওয়েবসাইটে ঢুকে পড়েছিলেন। এ ছাড়া তাঁর আচরণে সন্দেহজনক কিছু নেই বলে দলিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন দলিল সম্পর্কে বক্তব্য নিতে জিনজিয়াংয়ের আঞ্চলিক সরকারকে ফ্যাক্সের মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়েছিল আলজাজিরা। কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং শুয়াং বলেন, ‘এ ধরনের অর্থহীন সংবাদ সম্পর্কে মন্তব্য করার কোনো মানে হয় না।’

সূত্র : আলজাজিরা, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা