kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন

ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে বিতণ্ডায় যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স

ইউরোপের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য ফ্রান্সের অগ্রগামী হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন ন্যাটোপ্রধান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পশ্চিমা প্রভাব কমে যাওয়া নিয়ে ইউরোপের উদ্বেগ নাকচ করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, ‘পশ্চিমেরই জয় হচ্ছে এবং আমরা একসঙ্গে জয় লাভ করছি।’ পশ্চিমের প্রভাব কমে যাওয়ার উদ্বেগটা ‘অতিমাত্রায় রং চড়ানো’—এমন মন্তব্যও করেন তিনি। এ উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে ইউরোপের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য ফ্রান্সের অগ্রগামী হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন ন্যাটোপ্রধান জেনস স্টোলটেনবার্গ।

জার্মানির মিউনিখে তিন দিনব্যাপী নিরাপত্তা সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন গত শনিবার ইউরোপের নিরাপত্তায় তাদের নিজেদের ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে কথা হয়। এদিন নিরাপত্তা নিয়ে ইউরোপের উদ্বেগ প্রশমনের চেষ্টা করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ একসঙ্গ এগিয়ে যাচ্ছে।

পম্পেওর চেষ্টায় অবশ্য কাজ হয়নি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ উল্টা মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, পশ্চিম দুর্বল হয়ে পড়ছে।

এ ছাড়া গত শনিবার সম্মেলনের প্রথম দিকে জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাংক ওয়াল্টার স্টেইনমেইয়ার অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক সমাজব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আগ্রহ নেই। শুধু তা-ই নয়, যুক্তরাষ্ট্র নিজের প্রতিবেশী ও অংশীদারদের বিরুদ্ধে যেতেও পিছপা হচ্ছে না বলে তাঁর অভিযোগ।

এসব কথার জবাবে পম্পেও বলেন, ‘এসব কথাবার্তায় বাস্তবের কোনো প্রতিফলন নেই। আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাতে চাই, ট্রান্স-আটলান্টিক জোটের অস্তিত্বহীনতা নিয়ে অতিরিক্ত রং চড়ানো কথাবার্তা হয়েছে।’ ইউরোপের নিরাপত্তার জন্যই রুশ সীমান্তসংলগ্ন পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পম্পেওর কথায় ভোলেননি ম্যাখোঁ। তিনি মনে করেন, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র, আর তাই ইউরোপের উচিত নিজেদের ভাগ্য নিজে নির্মাণ করা। তিনি বলেন, ‘আমাদের দরকার ইউরোপীয় কৌশল, যা আমাদের নতুন জীবন দেবে এবং কৌশলগত রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করবে।’

কিন্তু ন্যাটোপ্রধান স্টোলটেনবার্গ মনে করেন, ইউরোপের কৌশলগত আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই, ফ্রান্সের পরমাণু শক্তির ব্যবহার নিয়ে কথা বলারও কোনো প্রয়োজন নেই। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের পরমাণু শক্তি ইউরোপের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের পরমাণু শক্তি এরই মধ্যে পরীক্ষিত ও প্রমাণিত।

ইউরোপের রাজনীতি, বাণিজ্য, পররাষ্ট্রনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তর প্রভাব রয়েছে। এ প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে চান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ। এরই মধ্যে নানাভাবে তিনি সেই প্রচেষ্টা স্পষ্ট করেছেন এবং এ ব্যাপারে তাঁর কূটনীতিও দৃশ্যমান। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফ্রান্সের দ্বন্দ্ব কটু পর্যায়ে না গেলেও ওঠানামা করছে। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে সেই দ্বন্দ্বই প্রকট হয়ে উঠেছে।

সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা