kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

শপথ নিলেন কেজরিওয়াল

আজ থেকে বিজেপি-কংগ্রেস ভোটারদেরও মুখ্যমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আজ থেকে বিজেপি-কংগ্রেস ভোটারদেরও মুখ্যমন্ত্রী

দিল্লিতে গতকাল শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল (বাঁয়ে) সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। ছবি : এএফপি

কে কাকে ভোট দিয়েছেন জানার প্রয়োজন নেই; বিজেপি-কংগ্রেস-নির্বিশেষে সবার মুখ্যমন্ত্রী তিনি। তৃতীয়বার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে এমনটাই জানিয়ে দিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এর আগে ভোটে জয়লাভের পরও বিজেপির নাম মুখে আনেননি তিনি। কিন্তু গতকাল রবিবার দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে শপথগ্রহণের পর কেজরিওয়াল জানিয়ে দেন, মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়ে থাকুক বা কংগ্রেসকে, তিনি সবার মুখ্যমন্ত্রী। সবার জন্য কাজ করাই তাঁর লক্ষ্য।

গতকাল কেজরিওয়ালের সঙ্গে তাঁর ছয় মন্ত্রীও শপথ নেন। তাঁরা হলেন মণীশ সিসোদিয়া, সত্যেন্দ্র জৈন, গোপাল রাই, কৈলাস গেহলত, ইমরান হোসেন ও রাজেন্দ্র পাল গৌতম।

কেজরিওয়াল জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘কেউ আপকে (আম আদমি পার্টি) ভোট দিয়েছেন, কেউ বিজেপিকে। কেউ কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছেন, তো কেউ আবার অন্য কোনো দলকে। কিন্তু শপথ নেওয়ার পর আজ থেকে আমি আপনাদের সবার মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি, কংগ্রেসসহ সব দলের মুখ্যমন্ত্রী আমি। গত পাঁচ বছর শুধু কাজ করে গিয়েছি। কাজের ক্ষেত্রে কোনো ভেদাভেদ করিনি। দুই কোটি দিল্লিবাসীর কাছে আরজি, নির্বাচন শেষ। যাকেই ভোট দিয়ে থাকুন না কেন, আজ থেকে আপনারা সবাই আমার পরিবার। যেকোনো রকম প্রয়োজনই হোক না কেন, নির্দ্বিধায় আমার কাছে চলে আসবেন। কে কোন পার্টির, কে কোন ধর্মের, কে কোন জাতের দেখব না আমি।’

নির্বাচনী প্রচার চলাকালে কেজরিওয়ালকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন বিজেপি নেতৃত্ব। এদিন সরাসরি তা উল্লেখ না করলেও কেজরিওয়াল জানিয়ে দেন, ভোটের সময় যে যা বলেছেন, সব ক্ষমা করে দিয়েছেন তিনি। কেজরিওয়াল বলেন, ‘দিল্লির জন্য আরো অনেক কাজ বাকি। আমি একা করতে পারব না। সবাই মিলে করতে হবে। সবার সঙ্গে মিলে দিল্লির উন্নতি করতে চাই আমি।’

বিভাজন ও বৈষম্যের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বরাবর কাজকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন তিনি, আগামী পাঁচ বছরও দিল্লির উন্নতিতেই কাজ করে যেতে তিনি বদ্ধপরিকর বলেও জানিয়ে দেন কেজরিওয়াল। দিল্লিবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা ভারতবর্ষে এক নতুন ধারার রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন; যেখানে কাজের নিরিখে রাজনীতি হবে, ধর্মীয় ভেদাভেদ-হিংসার রাজনীতি নয়।’

এদিন শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন কেজরিওয়াল। বারানসি সফরে যাওয়ায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি মোদি। সে প্রসঙ্গে কেজরিওয়াল বলেন, ‘কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে মিলে দিল্লিকে পৃথিবীর এক নম্বর শহর বানাতে চাই আমি। আজকের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। কিন্তু অন্য অনুষ্ঠানে ব্যস্ত উনি। তাই আসতে পারেননি। দিল্লির উন্নতির জন্য ওঁর কাছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও আশীর্বাদ চাইছি।’

বিনা মূল্যে মানুষের কাছে নানা পরিষেবা পৌঁছে দিয়েছেন বলেই কেজরিওয়াল ভোটে জিতেছেন বলে কয়েক দিন ধরে?ই সরব হয়েছে বিরোধীরা। এদিন তাদেরও একহাত নেন কেজরিওয়াল। তাঁর বক্তব্য, ‘পৃথিবীতে যা কিছু অমূল্য, তা বিনা মূল্যেই দিয়েছেন ভগবান। সরকারি স্কুলে পড়ুয়াদের কাছ থেকে টাকা নেব কেন? হাসপাতালে কেন বিনা মূল্যে চিকিৎসা পাবে না মানুষ? কেজরিওয়াল দিল্লিকে ভালোবাসেন, দিল্লিবাসীও কেজরিওয়ালকে ভালোবাসে, এই ভালোবাসার কোনো মূল্য হয় না।’ সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

এবারের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে ৭০ আসনের মধ্যে ৬২ আসন পেয়ে দুরন্ত জয় পায় এএপি। বিজেপি পেয়েছে মাত্র আটটি আসন। নির্বাচনে ২০১৫ সালের কাছাকাছিই ফল করেছে আম আদমি পার্টি। সূত্র : আনন্দবাজার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা