kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

নিজ অবস্থানে অনড় মোদি

৩৭০ বহাল থাকবে সিএএ চালু করবই

‘অযোধ্যায় রামমন্দির শিগগিরই’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৩৭০ বহাল থাকবে সিএএ চালু করবই

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদকারী ৩৭০ ধারা এবং সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বহাল থাকবে। যদিও পাস হওয়ার পর থেকেই সিএএ নিয়ে বিক্ষোভ চলছে। ৩৭০ ধারা নিয়েও দেশে-বিদেশে অসন্তোষ রয়েছে। বিক্ষোভের মধ্যেই মোদি আইন দুটির পক্ষে আবারও তাঁর দৃঢ় অবস্থানের কথা জানালেন। একই সঙ্গে এও জানিয়েছেন, অযোধ্যায় শিগগিরি রামমন্দির নির্মাণ করা হবে।

নরেন্দ্র মোদি গতকাল রবিবার তাঁর নির্বাচনী এলাকা উত্তর প্রদেশের বারানসি সফর করেন। দিনব্যাপী এই সফরে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘৩৭০ ধারা বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন দেশের স্বার্থে অপরিহার্য। প্রচণ্ড চাপের পরও আমরা এর সঙ্গে আছি। এই আইন বহাল থাকবে।’

একই ভাষণে মোদি আরো বলেন, ‘অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের জন্য একটি ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। এই ট্রাস্ট শিগগিরই কাজ শুরু করবে। দ্রুত অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হবে।’ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুসারে, সম্প্রতি শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। এই ট্রাস্টই রাম মন্দির নির্মাণ করবে।

সফরে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পও উদ্বোধন করেন মোদি। এক হাজার ২৫৪ কোটি রুপি ব্যয়ে ৫০টি প্রকল্প উদ্বোধন করেন তিনি।

গত বছর লোকসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর থেকেই একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে থাকে নরেন্দ্র মোদির সরকার। এর শুরু হয় জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদের মধ্য দিয়ে। হিমালয় কোলের এ উপত্যকা এখন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। এর অধিকাংশ নেতাই গৃহবন্দি এবং এ অঞ্চলে ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থাও পুরোপুরি চালু হয়নি। এ নিয়ে দেশে-বিদেশে উদ্বেগ রয়েছে। পাকিস্তানের নানামুখী তৎপরতার কারণে কাশ্মীর ইস্যুতে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান পর্যন্ত। গত সপ্তাহে এরদোয়ানের একটি মন্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া দেখায় দিল্লিও। এর পরই আবার কাশ্মীর নিয়ে নিজ সরকারের অবস্থান জানান দিলেন মোদি।

কাশ্মীরের পরপরই আসে আসামের নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি)। মূলত স্থানীয় মুসলমানদের নাগরিকত্ব খারিজ করার জন্য নাগরিক পঞ্জি তৈরি করা হলেও দেখা যায় তালিকায় হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসীর সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি।

মোদি সরকারের সর্বশেষ সংযোজন সিএএ। এই আইনে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ভারতে যাওয়া মুসলিমদের বাদ দিয়ে বাকি ছয়টি ধর্মের মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গত ৬ ডিসেম্বর আইনটি পাস হয়। এর পর থেকেই ভারতজুড়ে বিক্ষোভের সূচনা। প্রায় দেড় মাস ধরে রাজধানী দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ শাহিনবাগ এলাকার ব্যস্ত সড়ক দখল করে বিক্ষোভ করছেন একদল নারী। এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভায় প্রস্তাব পাস হয়েছে, তারা তাদের রাজ্যে সিএএ বাস্তবায়ন করবে না। এমন এক পরিস্থিতির মধ্যেই এ আইনের পক্ষে নতুন করে নিজেদের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানালেন মোদি।

সূত্র : পিটিআই, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা