kalerkantho

সোমবার । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ ফাল্গুন ১৪২৬। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা

ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা খর্ব সিনেটে বিল পাস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা খর্ব সিনেটে বিল পাস

কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যাতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে না পারেন, সে বিষয়ে মার্কিন সিনেটে একটি বিল পাস হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ৫৫-৪৫ ভোটে বিলটি পাস হয়। তবে ট্রাম্প এই বিলে ভেটো দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিনেটে (পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ) ট্রাম্পের রিপাবলিকানরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের উত্থাপিত ওই বিলের পক্ষে ভোট দেন আট রিপাবলিকান সদস্য। ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর গত জানুয়ারিতেও মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসেও একই ধরনের একটি বিল পাস হয়।

বৃহস্পতিবার পাস হওয়া ‘ইরান ওয়ার পাওয়ারস রেগুলেশন’ শীর্ষক বিলে ট্রাম্পের অনুমোদন লাগবে। কিন্তু তিনি এতে ভেটো দেবেন, তা অনেকটা নিশ্চিত। কারণ গত বুধবার বিলটির সমালোচনা করে তিনি টুইটারে লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের বিলের বিপক্ষে ভোট দেওয়াটা খুবই জরুরি।’ তিনি আরো বলেন, ‘ইরানকে আমরা বেশ ভালোভাবেই মোকাবেলা করছি। এখন আমাদের দুর্বলতা দেখানোর সময় নয়। আমার হাত বেঁধে দেওয়া হলে ইরান সুযোগ পেয়ে যাবে। এটা খুবই খারাপ হবে। রিপাবলিকানদের বিব্রত করতে ডেমোক্র্যাটরা এ ধরনের বিল তৈরি করছে।’

ট্রাম্প ভেটো দিলে বিলটি আবার সিনেটে যাবে। সে ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভেটো বাতিল করতে বিলের পক্ষে ভোট পড়তে হবে দুই-তৃতীয়াংশ। সেই হিসাবে বিলটি শেষমেশ বাতিলও হয়ে যেতে পারে। আর বিলটি পাস হলে ইরানের বিরুদ্ধে মোতায়েন করা সব মার্কিন সেনাকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হবেন ট্রাম্প। এ ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সেনা মোতায়েন করতে হলেও কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে।

সিনেটে বিলটি পাস হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন নৌবাহিনী দাবি করে, তারা আরব সাগর থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ধার করেছে। তাদের ধারণা, ট্যাংকবিধ্বংসী এই ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের। এ ছাড়া বিলটি পাস হওয়ার আগ মুহূর্তে ইরাকে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে রকেট হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। গত ২৭ ডিসেম্বর ওই এলাকায় বোমা হামলায় এক মার্কিন ঠিকাদার নিহত হন। মূলত ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এর একপর্যায়ে কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দেন ট্রাম্প।

সোলাইমানির মৃত্যুর পর বিলটি পার্লামেন্টে তুলেছিলেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন। তিনি বলেন, ‘যেকোনো যুদ্ধের সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের বিতর্কের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। সংবিধানেও একই কথা বলা হয়েছে।’

আরেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর টামি ডাকওয়ার্থ বলেন, ‘ট্রাম্পের চেয়ে আমার ২১ মাসের সন্তানের আত্মনিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি।’ তবে অনেক রিপাবলিকান সিনেটর বিলটির সমালোচনা করেছেন। মিসিসিপির সিনেটর রজার উইকার বলেন, ‘দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নয়; এই মুহূর্তে প্রেসিডেন্টের তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকা উচিত।’ সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা