kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

সরকারি ওয়েবসাইট থেকে গায়েব আসাম এনআরসির তথ্য

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ কংগ্রেসের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সরকারি ওয়েবসাইট থেকে গায়েব আসাম এনআরসির তথ্য

এমনিতেই জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সাম্প্রতিক পরস্পরবিরোধী মন্তব্যে দেশজুড়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। এরই সঙ্গে বিভ্রান্তি বাড়িয়েছে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) এবং জাতীয় জনসংখ্যাপঞ্জি (এনপিআর)। এই তিনের জেরে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে দেশের একটা বড় অংশের মানুষ। সেই আতঙ্কের আবহে এবার সরকারি ওয়েবসাইট থেকে আসামের এনআরসিসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য উধাও হয়ে গেল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই ওই তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু গত দুই মাস ধরে তা দেখা যাচ্ছে না। প্রযুক্তিগত কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু এর পেছনে রহস্যের গন্ধ পাচ্ছে বিরোধী শিবির কংগ্রেস। আচমকা সব তথ্য উবে গেল কিভাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তারা।

এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় কাদের নাম রয়েছে এবং কাদের বাদ গেছে তা জানতে এত দিন একটি ওয়েবসাইটে (.িহৎপধংংধস.হরপ.রহ) গিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় ক্লিক করলেই সে সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য দেখা যেত। কিন্তু দুই মাস ধরে ওই ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে ক্লিক করলে ‘এরর’ দেখাচ্ছে।

তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থা ‘উইপ্রো’র সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়াতেই এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেছেন আসামে এনআরসির বর্তমান কো-অর্ডিনেটর হিতেশ দেব শর্মা। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিতেশ বলেন, ‘গত বছর ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ক্লাউড পরিষেবা এবং ওয়েবসাইটসংক্রান্ত সব কিছুর দায়িত্ব ছিল বেসরকারি সংস্থা উইপ্রোর হাতে। কিন্তু আমার আগে যিনি দায়িত্বে ছিলেন, তিনি চুক্তি পুনর্নবীকরণ করেননি। সে জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে ওয়েবসাইটে কোনো তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে না।’ তাঁর দাবি, বিষয়টি নিয়ে উইপ্রোর সঙ্গে নতুন করে কথাবার্তা চলছে এবং শিগগিরই একটা সুরাহা হবে।

সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতেই আসামে এনআরসি হয়েছিল। চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়েছিল প্রায় ১৯ লাখ মানুষের নাম। এর মধ্যে অন্তত ১৩-১৪ লাখ হিন্দু। তালিকা প্রকাশ হতেই অস্বস্তিতে পড়ে যায় রাজ্যের শাসক দল বিজেপি। চূড়ান্ত তালিকায় বেশির ভাগ হিন্দুর নাম বাদ পড়ায় ভোট ব্যাংকে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছিল আসাম বিজেপি। সেই আবহে গত নভেম্বরে রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়ে দেন, গোটা দেশের সঙ্গেই আসামে নতুন করে এনআরসি হবে। রাজ্য বিজেপিও দাবি তোলে, আসামের এনআরসি পুরোপুরি বাতিল করে সারা দেশের সঙ্গে নতুন করে এনআরসি হোক।

সেই সময় বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছিল, এনআরসিতে হিন্দুরা বাদ যাচ্ছে বলে যে প্রচার শুরু হয়েছে, তা আটকাতেই এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা জলাঞ্জলি দিতে চান নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহরা। তাদের আরো প্রশ্ন ছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে করা তালিকা এভাবে বাতিল করা কি শীর্ষ আদালতের অবমাননা নয়? বিরোধীরা এখন বলছে, এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা খরচ হলো, কোটি কোটি মানুষ হয়রান হলো, বহু আত্মঘাতী হলো, সেই ক্ষতিপূরণ কে দেবে? বিষয়টিকে একেবারেই হালকাভাবে নিতে রাজি নয় আসাম প্রদেশ কংগ্রেসও। এ নিয়ে ভারত সরকারের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সেনসাস কমিশনারকে এরই মধ্যে অভিযোগপত্র পাঠিয়েছে তারা। সেখানে বলা হয়েছে, ‘এনআরসির ওয়েবসাইট থেকে আচমকাই সব তথ্য উড়ে গেছে। তালিকায় কার নাম রয়েছে, কার নাম বাদ গিয়েছে, কিছুই দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ যাতে সব কিছু হাতের কাছে পান, এর জন্য সুপ্রিম কোর্টই ওই সব তথ্য অনলাইন প্রকাশ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আচমকা সব কিছু কিভাবে উড়ে গেল, তা রহস্যজনক ঠেকছে।’

আসাম বিধানসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের দেবব্রত সাইকিয়া ওই চিঠিতে লিখেছেন, ‘যাঁদের নাম বাদ গেছে, এখনো তাঁরা নাগরিকত্ব পেতে আবেদনই করে উঠতে পারেননি। এর মধ্যে সব তথ্য উড়ে যাওয়ার  পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে।’

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা