kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

উহানে ‘জীবাণু-অস্ত্রের’ দুটি পরীক্ষাগার!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উহানে ‘জীবাণু-অস্ত্রের’ দুটি পরীক্ষাগার!

জাপানের রাজধানী টোকিওর একটি গণপরিবহনে গতকাল সব আরোহীকেই সুরক্ষার জন্য মাস্ক পরতে দেখা যায়। সম্প্রতি চীনের উহান শহর সফর করে দেশে ফেরা এক জাপানির মধ্যে করোনাভাইরাসের লক্ষণ পাওয়া গেছে। ছবি : এএফপি

উহানের প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসটির উৎপত্তি চীনের জীবাণু অস্ত্রসংশ্লিষ্ট গোপন কর্মসূচির সঙ্গে সংযুক্ত কোনো পরীক্ষাগার থেকে হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন একজন ইসরায়েলি বিশেষজ্ঞ। হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে চীনের অত্যাধুনিক ভাইরাস গবেষণা পরীক্ষাগার উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি নিয়ে ২০১৫ সালে স্থানীয় টেলিভিশনের করা একটা প্রতিবেদন চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত রেডিও ফ্রি এশিয়া  ফের সম্প্রচারও করেছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, চীন থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে, উহানের এ পরীক্ষাগারে প্রাণঘাতী ভাইরাস নিয়ে কাজ করা সম্ভব। ভাইরাস গবেষণার এই ইনস্টিটিউটটি বেইজিংয়ের গোপন জীবাণু অস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জীবাণু অস্ত্র বিশেষজ্ঞ ড্যানি সোহাম। ওয়াশিংটন টাইমসকে তিনি বলেন, ‘ইনস্টিটিউটটির কিছু কিছু পরীক্ষাগার চীনের জীবাণু অস্ত্র কর্মসূচির গবেষণা ও আধুনিকায়নে যুক্ত থাকতে পারে, অন্ততপক্ষে পরোক্ষ সংযোগ থাকতে পারে; তবে এটি চীনের জীবাণু অস্ত্র কর্মসূচির মূল স্থাপনা নয়।’

চীন এর আগে তাদের কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক জীবাণু অস্ত্র থাকার কথা অস্বীকার করেছে। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের গত বছরের প্রতিবেদনে চীন গোপনে জীবাণু অস্ত্র কর্মসূচি চালাচ্ছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল। ওয়াশিংটন টাইমস সোহামের বক্তব্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চীনা দূতাবাসের মুখপাত্রের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে ই-মেইল করলে তারা কোনো জবাব দেয়নি।

হুবেই প্রদেশে কয়েক হাজার লোক এই ভাইরাসে আক্রান্ত। এর মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা গতকাল ১০০ ছাড়িয়েছে। তবে নিউমোনিয়ার মতো এ করোনাভাইরাসটির উৎপত্তি নিয়ে চীন এখন পর্যন্ত স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। প্রাথমিকভাবে এটি উহানের একটি বন্য প্রাণীর বাজার থেকে ছড়িয়েছে বলে গত সপ্তাহে চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমকে দেশটির সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের পরিচালক গাও ফু ইঙ্গিত দেন।

কয়েক সপ্তাহ আগে ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়ার শুরুর দিকে এ করোনাভাইরাসটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জীবাণু অস্ত্র ষড়যন্ত্রের অংশ বলে চীনের ইন্টারনেট অঙ্গনে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।  বেইজিং উহানের সামরিক বা বেসামরিক গবেষণা পরীক্ষাগার থেকে ‘ছড়িয়ে পড়া’ ভাইরাসটির সংক্রমণের বিষয়টি চাপা দিতে ‘পাল্টা প্রচার’ চালাতে এটি করে থাকতে পারে বলে অনুমান এ মার্কিন কর্মকর্তার।

নতুন এ ভাইরাসের জীবাণুকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) নভেল করোনাভাইরাস ২০১৯-সিওভি নাম দিয়েছে। গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারা নতুন এ করোনাভাইরাসটি চীনে ‘জরুরি অবস্থা’ সৃষ্টি করেছে বলে জানালেও এখনি বিশ্বের উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলে মন্তব্য করেছে।  এ ভাইরাসটির সংক্রমণ ঠেকাতে চলতি সপ্তাহে চীন উহানে সেনাবাহিনী মোতায়েনে বাধ্য হয়েছে। এক কোটি ১০ লাখ বাসিন্দার শহরটির সঙ্গে সব ধরনের পরিবহন যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে।

চীনের এই ইনস্টিটিউট থেকেই ভাইরাসটি ছড়িয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসরায়েলি বিজ্ঞানী বলেন, ‘লিকেজ হয়ে কিংবা ভেতরেই অজান্তে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে তা বাইরে চলে আসতে পারে। উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির ক্ষেত্রেও এটি ঘটতে পারে, যদিও এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো কিছুর প্রমাণ বা ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।’ তিনি আরো বলেন, ‘উহানের এ ইনস্টিটিউটটি চীনের বিজ্ঞান একাডেমির নিয়ন্ত্রণাধীন। যদিও এর কিছু পরীক্ষাগারের সঙ্গে চীনা প্রতিরক্ষা বাহিনীর জীবাণু অস্ত্রসংক্রান্ত কর্মসূচির যোগসাজশ থাকতে পারে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা