kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ট্রাম্পের অভিশংসন

সাক্ষী ডাকার চাপ বাড়ছে

বিষয়টি ঠিক অভিযোগ হিসেবে নয়; বরং অ্যাটর্নি জেনারেল বিল বারের সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে আসে। বোল্টন অভিযোগ করার পর বিল বারও তাঁর সঙ্গে একমত হন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাক্ষী ডাকার চাপ বাড়ছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা প্রকাশের আগে গতকাল পশ্চিম তীরের নাবলুসে স্থানীয় সরকারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে ফিলিস্তিনিরা। ইসরায়েলের সঙ্গে ট্রাম্পের যে সখ্য তাতে তাঁর ঘোষিত পরিকল্পনা ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে যাবে বলেই আশঙ্কা পশ্চিম তীরবাসীর। ছবি : এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দ্রুত অভিশংসন বিচার থেকে বের করে নিতে প্রত্যয়ী আইনজীবীরা নতুন করে বিপাকে পড়েছেন। একভাবে যুক্তিতর্ক সাজিয়ে তাঁরা সিনেটে উপস্থাপন শুরু করলেও মাঝপথে এসে সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের অপ্রকাশিত বইয়ের তথ্য বিভ্রাট বাধিয়ে দেয়। এখন ট্রাম্প অভিশংসিত হবেন কি না তা গুরুত্ব হারিয়ে মুখ্য হয়ে উঠেছে এই বিচারে সাক্ষী উপস্থিত করার বিষয়টি; শুরু থেকেই যার তীব্র বিরোধী ট্রাম্প ও রিপাবলিকান সিনেটররা।

এদিকে বোল্টনের বইয়ের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। বইয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাম্প স্বৈরশাসকদের সঙ্গে সখ্য বাড়াচ্ছেন। বিষয়টি ঠিক অভিযোগ হিসেবে নয়, বরং অ্যাটর্নি জেনারেল বিল বারের সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে আসে। বোল্টন অভিযোগ করার পর বিল বারও তাঁর সঙ্গে একমত হন। এ ক্ষেত্রে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে তাঁরা কথা বলেন এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসে গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। এর আগের দিন বোল্টনের অপ্রকাশিত বইয়ের সূত্র দিয়েই পত্রিকাটি জানিয়েছিল, বোল্টন বলেছেন, ট্রাম্প তাঁর কাছে ডেমোক্র্যাট এবং তাঁর সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা না করার জন্য ইউক্রেনের সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

বোল্টনের এ তথ্য সামনে আসার পরই ডেমোক্র্যাটরা সাক্ষী ডাকার বিষয়টিতে জোর দেয়। আগে থেকেই তারা এ নিয়ে সোচ্চার ছিল। বিশেষ করে বোল্টন ও হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা মাইক মুলভেনিকে জেরা করার সুযোগ চাইছিল তারা। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে অভিশংসন নিয়ে তদন্ত চলার সময়ও তারা এ দাবি জানিয়েছিল। তবে সে সময় ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের কোনো কর্মীর সাক্ষ্য দেওয়ার ব্যাপারে বাধা দিয়েছিলেন।

পরিস্থিতি এখনো একই রকম। ট্রাম্প বিষয়টিতে রাজি নন। বলা হচ্ছে, সিনেট যদি নতুন সাক্ষীদের কথা শোনার সিদ্ধান্তও নেয়, হোয়াইট হাউস বিষয়টিকে আদালতে নিয়ে যাবে। সেখানে সিদ্ধান্ত হতে বেশ অনেকটাই সময় লেগে যাবে।

রবিবার থেকে নতুন তথ্য সামনে আসার পর বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর সাক্ষী হাজিরের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছেন। সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে (৫৩-৪৭)। সাক্ষী ডাকার জন্য ডেমোক্র্যাটদের চারজন রিপাবলিকানের সম্মতির প্রয়োজন হবে। এরই মধ্যে তারা তিনজনের সম্মতি পেয়ে গেছে।

বিষয়টিকে ট্রাম্প মোটেই সুদৃষ্টিতে দেখছেন না। গত সোমবার এক টুইট বার্তায় প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি কখনোই বোল্টনকে বলিনি, ডেমোক্র্যাটদের তদন্তের জন্য ইউক্রেনের সাহায্য আটকে দেওয়া হবে। তাঁকে যখন বরখাস্ত করা হয় তখনো তিনি এ অভিযোগ তোলেননি। বোল্টন বই বেচার জন্য এসব কথা বলছেন।’

তবে বোল্টন-ঘটনা আদতে ট্রাম্পের অভিশংসনে কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে এ সপ্তাহেই। কারণ সাক্ষী বিষয়ে এ সপ্তাহেই ভোটাভুটি হওয়ার কথা।

ঘটনা শুরু হয় গত বছর জুলাই মাসে। ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ফোন করে ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনের ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করার জন্য চাপ দেন। অন্যথায় তাঁরা মার্কিন সামরিক সহায়তা হারাবেন বলেও হুমকি দেন তিনি। বাইডেনের ছেলে হান্টার ইউক্রেনের একটি তেল কম্পানির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন। তিনি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন—এমন আলোচনা রয়েছে। ট্রাম্পের ফোনের বিষয়টি সামনে আসার পর ডেমোক্র্যাটরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। পরে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর হাউসে অভিশংসিত হন ট্রাম্প। এ মাসের শুরু থেকে সিনেটে অভিশংসনের বিচার শুরু হয়। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা