kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

বেঁচে ফেরা মানুষগুলোর আকুতি

‘আউশভিেসর পুনরাবৃত্তি আর নয়’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘আউশভিেসর পুনরাবৃত্তি আর নয়’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান নািসদের গণহত্যার শিকার ইহুদিদের স্মরণে পোল্যান্ডের আউশভিৎস শিবিরের কাছে নির্মিত সৌধে গতকাল ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। গণহত্যার সময় বেঁচে যাওয়া এক ইহুদি গতকাল ফুল দেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। ছবি : এএফপি

জার্মান নািসদের মৃত্যুকূপ থেকে মুক্তির ৭৫ বছর পূর্তিতে গতকাল সোমবার পোল্যান্ডের আউশভিৎস শিবিরে জড়ো হয়েছিলেন বেঁচে যাওয়া ইহুদিরা। তাঁদের অনেকে বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে গেলেও গতকালের আয়োজনে উপস্থিত হওয়ার কষ্ট স্বীকার করেছেন। বিশ্বব্যাপী ইহুদিবিরোধিতা বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্কবার্তা দিতেই তাঁরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে জার্মান নািস বাহিনীর তৈরি ছয়টি মৃত্যুশিবিরের একটি ছিল পোল্যান্ডের আউশভিৎস শিবির। পোল্যান্ড তখন জার্মানদের দখলে। আকারে ও হত্যাকাণ্ডের সংখ্যার দিক থেকে ওই শিবির ছিল বৃহত্তম। সেখানে প্রায় ১১ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়, যাদের বেশির ভাগই ছিল ইহুদি। নািসদের ইহুদি গণহত্যার সময় বেঁচে যাওয়া প্রায় ২০০ জন গতকাল ওই শিবিরেই হাজির হন। নিহত ও ভুক্তভোগী ইহুদিদের স্মরণে নির্মিত ‘ডেথ ওয়াল’ শীর্ষক সৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তাঁরা।

আউশভিৎস শিবিরে বেঁচে যাওয়া ইহুদিদের একজন ডেভিড মার্কসের বয়স এখন ৯৩। গতকালের আয়োজনে তিনিও ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কিসের ভেতর দিয়ে গিয়েছি, সেটা পরবর্তী প্রজন্ম জানুক, তেমনটাই আমরা চাই। কখনো ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটা উচিত নয়।’ আউশভিেস তিনি পরিবার ও স্বজন মিলিয়ে ৩৫ জনকে হারিয়েছেন।

আউশভিেস গতকালের আয়োজনে প্রবীণ ইহুদিদের পাশাপাশি বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা। তবে শীর্ষ সারির কোনো নেতা সেখানে থাকছেন না। অথচ ইসরায়েল গত সপ্তাহে যে আয়োজন করেছিল, সেখানে শীর্ষ বিশ্বনেতাদের বেশ কয়েকজন ছিলেন। ইহুদিদের নিয়ে আয়োজনে কোনো রাজনৈতিক বিভেদরেখা টানতে রাজি নন গতকালের আয়োজকরা। ওয়ার্ল্ড জুইশ কংগ্রেসের প্রধান রোনাল্ড লডার বলেন, ‘যাঁরা বেঁচে গেছেন, তাঁদের নিয়ে আয়োজন। এটা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ইহুদিবিরোধিতা বাড়তে দেখছি এবং আমরা চাই না, তাঁদের (নািসদের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া ইহুদি) অতীতটাই তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ হয়ে উঠুক, তাঁদের নাতি-নাতনিদের ভবিষ্যৎ হয়ে উঠুক।’

১৯৪২ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে পুরো ইউরোপ থেকে ইহুদিদের ছয়টি শিবিরে স্থানান্তর করতে থাকে নািস বাহিনী। ওই সব শিবিরে ইহুদি হত্যার বিষয়টি সে বছর ডিসেম্বরে মিত্র বাহিনীর কাছে প্রতিবেদন আকারে তুলে ধরে তৎকালীন লন্ডনভিত্তিক প্রবাসী পোল্যান্ড সরকার। কিন্তু মিত্র বাহিনী নািসদের সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের দিকেই সব সময় বেশি মনোযোগ দিয়েছে। ফলে ১৯৪৫ সালের জানুায়ারিতে সোভিয়েত রেড আর্মির অভিযানের আগেই ওই ছয় শিবিরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় প্রায় ৬০ লাখ ইহুদি। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা