kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৬ জুলাই ২০২০। ২৪ জিলকদ ১৪৪১

অপ্রকাশিত বইয়ে স্বীকারোক্তি

বোল্টনকে সাক্ষী করার জোর দাবি ডেমোক্র্যাটদের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বোল্টনকে সাক্ষী করার জোর দাবি ডেমোক্র্যাটদের

ডোনাল্ড ট্রাম্প, (বায়ে) জন বোল্টন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলা অভিশংসন বিচারে নতুন মোড় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আর এই সম্ভাবনা তৈরি করেছে সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের একটি অপ্রকাশিত বই। বইয়ে দাবি করা হয়, ট্রাম্প তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু না করায় ইউক্রেনকে প্রদেয় সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন।

বাইডেনের এ তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা নতুন করে সিনেটে চলমান ট্রাম্পের অভিশংসনের বিচারে সাক্ষী ডাকার দাবি তুলেছে। তাদের দাবি, এই তথ্য ট্রাম্পের আইনজীবীরা তাঁর পক্ষে যে যুক্তি তুলে ধরেছেন তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে রবিবার জানানো হয়, বোল্টন একটি বই লিখেছেন। অপ্রকাশিত এই বইয়ে ট্রাম্পের সাবেক এই ঘনিষ্ঠ সহযোগী দাবি করেন, গত আগস্টে ট্রাম্প তাঁকে জানান, তিনি ইউক্রেনকে প্রদেয় ৩৯ কোটি ১০ লাখ ডলারের সামরিক সহায়তা স্থগিত করতে চান। কারণ দেশটি ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করছে না। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও আগের মাসে ফোনে কথা বলেন। তাঁকেও তিনি একই ধরনের হুমকি দেন। বাইডেনের ছেলে হান্টার ইউক্রেনের একটি তেল কম্পানির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন। তিনি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন, এমন আলোচনা রয়েছে।

ট্রাম্পের ফোনালাপের বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর থেকে এটি ক্ষমতার অপব্যবহার কি না তা নির্ধারণে তদন্ত শুরু করে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ডেমোক্র্যাটরা। গত মাসে তারা এ অভিযোগে ট্রাম্পকে অভিশংসিতও করে। এর পরই বিষয়টি উঠে সিনেটে। এরই মধ্যে সিনেটে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছে ডেমোক্র্যাটরা। রিপাবলিকানদের পক্ষে যুক্তি উত্থাপন শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার ছিল যুক্তি উত্থাপনের দ্বিতীয় দিন।

এমন সময়ই বোল্টনের বইয়ের বিষয়টি সামনে এলো। অভিশংসন বিচারে ডেমোক্রেটিক পার্টির ম্যানেজার অ্যাডাম স্কিফ রবিবার এক টুইটে এ ব্যাপারে বলেন, ‘বোল্টনের সাক্ষ্য আটকে দিতে চান ট্রাম্প। এখন আমরা বুঝতে পারছি এর কারণ কী। প্রেসিডেন্টের পক্ষে যে যুক্তি উপস্থাপন করা হচ্ছে তার সঙ্গে বোল্টনের বক্তব্য সাংঘর্ষিক।’ হাউসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেন, ‘রিপাবলিকানদের অবস্থান এখন আরো সমর্থনের অযোগ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে—সংবিধান অথবা গোপন করার চেষ্টা।’

তবে ডেমোক্র্যাটরা যা-ই বলুক না কেন সিনেটে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রায় অসম্ভব। সংখ্যাগরিষ্ঠতার (৫৩-৪৭) সুযোগ নিয়ে এর আগেই তারা নতুন সাক্ষী ডাকা বা তথ্য উপস্থাপন নাকচ করে দিয়েছে। রিপাবলিকান পার্টি থেকে মাত্র কয়েকজন সিনেটর সাক্ষী ডাকার পক্ষে। বাকিরা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বৈরিতার ইতিহাস বিবেচনায় এ পথে হাঁটতে রাজি নন। যদিও বোল্টন নিজে সিনেটে বিষয়টি নিয়ে কথা বলায় আগ্রহী।

সূত্র : এএফপি, বিবিসি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা