kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

‘ট্রাম্পের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন ভোটাররা, সিনেট নয়’

অভিশংসনের বিচার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা। যেসব অভিযোগ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে তাতে তাঁকে অভিশংসনের এখতিয়ার সিনেটের নেই। এমনটাই মনে করেন হোয়াইট হাউসের আইনজীবীরা। গত শনিবার থেকে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারে হোয়াইট হাউসের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক পেশ শুরু হয়েছে।

হোয়াইট হাউসে আইনজীবী প্যাট কিপোলনে বলেন, সিনেট যদি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে ট্রাম্পকে অভিশংসনের সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে তা হবে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার’। তিনি আরো বলেন, ‘তারা (ডেমোক্র্যাটরা) আপনাদের এমন কিছু করার অনুরোধ জানিয়েছে, যা কখনোই সিনেট করেনি।’

এর আগে তিন দিনে আট ঘণ্টা করে ২৪ ঘণ্টা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন ডেমোক্রেটিক পার্টির হাউসের ইমপিচমেন্ট ম্যানেজাররা। তবে ট্রাম্পের আইনজীবীরা এতটা সময় নেবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির ইমপিচমেন্ট ম্যানেজার অ্যাডাম শিফ এ সময় তাঁদের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কংগ্রেসের কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরির অভিযোগ করেন।

তবে কিপোলনে দাবি করেন, এই দুটি অভিযোগের ব্যাপারে জোরালো কোনো যুক্তি পেশ করতে পারেনি ডেমোক্র্যাটরা। তাদের যুক্তিতে এমন কিছু ছিল না যে ট্রাম্প ‘বড় ধরনের কোনো অপরাধ’ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি না, তারা এমন কোনো তথ্য তুলে ধরতে পেরেছে যা থেকে যে দায়িত্ব নিয়ে তারা সিনেটে এসেছে তা প্রমাণ হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা যখন শুনবেন প্রেসিডেন্ট কী করেছেন তখন বুঝতে পারবেন ট্রাম্প কোনো ভুল করেননি।’

এর আগে অ্যাডাম শিফ তাঁর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় বলেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে রাজনীতি ও গণতন্ত্রের জন্য ‘আশু হুমকি’ বয়ে আনবেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের মূলনীতি ‘ট্রাম্প প্রথমে, যুক্তরাষ্ট্র নয়’।

কিপোলন তাঁর যুক্তিতর্কে বলেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা চায় সিনেট ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সব ব্যালট ছিঁড়ে ফেলুক এবং আগামী নভেম্বরে ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টিও প্রতিরোধ করুক।’ তিনি আরো বলেন, ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় ধরনের হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা করছে। আমরা তা হতে দিতে পারি না। আমেরিকার মানুষ সিদ্ধান্ত নিক তারা কী চায়।’

ঘটনার সূত্রপাত গত বছর জুলাই মাসে। ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ফোন করে তাঁর (ট্রাম্পের) রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের দুর্নীতির তদন্ত করার অনুরোধ করেন। অন্যথায় দেশটিকে প্রদেয় মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হুমকি দেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করে ডেমোক্র্যাটরা। হাউসে অভিশংসনের তদন্ত শুরু হয়। পরে ১৮ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্টকে অভিশংসিত করে হাউস। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা