kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ভুতুড়ে শহর উহান

চীনে করোনাভাইরাসে মৃত্যু বেড়ে ২৬

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে এক রকম ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয়েছে চীনের হুবেই প্রদেশের বিভিন্ন শহর। রাস্তাঘাটে কোনো মানুষজন নেই; দোকানপাট সবই বন্ধ। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত করোনাভাইরাসে দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের। হুবেই প্রদেশের অন্তত ১৩টি শহরের বাসিন্দাদের একরকম অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। একের পর এক শহরে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে গণপরিবহন। এ ছাড়া চীনের বাইরে অন্তত সাতটি দেশে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়া গেছে।

হুবেই প্রদেশের বাইরে গত বৃহস্পতিবার প্রথম একজনের মৃত্যু হয় হিবেই প্রদেশে। একই দিন হেইলংজিয়াং প্রদেশে মৃত্যু হয় আরেকজনের। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত ৮৩০ জন আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৭৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ১০৭২। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৪ জন।

এদিকে সংখ্যায় খুব বেশি না হলেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুর।

নতুন চান্দ্রবর্ষ উপলক্ষে চীনে সপ্তাহব্যাপী সরকারি ছুটি চলছে। এ সময় দেশটির লাখ লাখ মানুষ বিভিন্ন দেশে বেড়াতে যায়। এ অবস্থায় করোনাভাইরাস ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে এখনো বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেনি সংস্থাটি।

ফুসফুসে সংক্রমণের পাশাপাশি জ্বর, কাশি ও শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষণ। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব অনেককে সার্সভাইরাসের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে, যা ২০০০ সালের শুরুতে এশিয়ার ৭৭৪ জনের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নতুন ভাইরাসটির জেনেটিক কোড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটি অনেকটাই সার্সভাইরাসের মতো।

ডিসেম্বরের শেষদিকে হুবেই প্রদেশের উহান শহরে সর্বপ্রথম করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। সামুদ্রিক মাছের পাইকারি বাজার হিসেবে শহরটি পরিচিত। অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা, কোনো প্রাণী থেকেই ভাইরাসটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছে। চীনে এ পর্যন্ত যে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের অধিকাংশই উহান শহরের বাসিন্দা। কিন্তু ভাইরাসটি ক্রমে ছড়িয়ে পড়ায় চীনজুড়েই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ভয়ে অনেকেই ঘরের বাইরে যাওয়ার সাহসও পাচ্ছেন না। গতকাল চীনের বিভিন্ন হাসপাতালে দেখা যায়, জ্বর বা সর্দিকাশি হওয়া সবাই ভয়ে চিকিৎসকের কাছে ছুটছে।

সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা