kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

চীনে করোনাভাইরাস ঠেকাতে তৎপর সরকার

অবরুদ্ধ দুই শহরের দুই কোটি বাসিন্দা

বেইজিংয়ে বাতিল চান্দ্রবর্ষ বরণ আয়োজন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবরুদ্ধ দুই শহরের দুই কোটি বাসিন্দা

চীনে করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মাস্ক ব্যবহার করছেন প্যারামিলিটারি সদস্যরাও। হুবেই প্রদেশের উহান শহরে বন্ধ ঘোষণা করা রেলওয়ে স্টেশনের প্রবেশপথে গতকাল মাস্ক পরে দায়িত্ব পালন করেন তাঁরা। ছবি : রয়টার্স

অত্যন্ত ছোঁয়াচে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে চীনের দুটি শহরে কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। ওই দুই শহরের বহির্গামী গণপরিবহনে যাত্রী চলাচল গতকাল বৃহস্পতিবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শহরের ভেতরেও আছে কড়াকড়ি। চরম বিপর্যয়ের আগেই সতর্ক হয়ে ওঠা সরকার গতকাল রাজধানী বেইজিংয়ে চান্দ্রবর্ষ বরণের অনুষ্ঠানও বাতিল করেছে।

নতুন ধরনের ভাইরাসের আক্রমণে চীনে এরই মধ্যে ১৭ জন মারা গেছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে চীন সরকারের ত্বরিত পদক্ষেপের প্রশংসা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ২০০৩ সালে সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (সার্স) ভাইরাসের সংক্রমণের সময় চীন সরকার প্রচণ্ড রাখঢাক করতে গিয়ে পরিস্থিতি যেভাবে ঘোলাটে করে ফেলেছিল, এবার তারা আর তেমন ভুলের দিকে যায়নি।

চীনে ছড়িয়ে পড়া নতুন এ করোনাভাইরাস অনেকটা সার্স ভাইরাসের মতো, যা ২০০৩ সালে চীনে প্রায় সাড়ে ৬০০ মানুষের মৃত্যু ঘটায়। এবার আক্রমণ করা ভাইরাস নতুন ধরনের বলে এটি প্রতিরোধের উপায় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা এখনো কূলকিনারা করতে পারেননি।

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা যথাসম্ভব কম রাখতে গতকাল হুবেই প্রদেশের এক কোটি ১০ লাখ জন-অধ্যুষিত উহান শহর থেকে বহির্গামী সব বিমান ও ট্রেনে যাত্রী পরিবহন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শহরের ভেতরের গণপরিহন চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে। জনসমাগমস্থলে চলাচলের ক্ষেত্রে শহরবাসীর জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ অবস্থায় খাদ্যসংকট সৃষ্টির আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ যতটা সম্ভব খাবার কিনে মজুদ করছে।

পাশের হুয়াংগাং শহর থেকেও বহির্গামী ট্রেনে যাত্রী পরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হুয়াংগাং শহরে সব থিয়েটার, ইন্টারনেট ক্যাফে ও সব ইনডোর বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের মহামারি প্রতিরোধের লক্ষ্যে চীন সরকার জনসচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সংক্রমণের ব্যাপারে হালনাগাদ তথ্য প্রচার করে যাচ্ছে। এর পরও ভাইরাসে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা উঠে আসছে না বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। চীনের সরকারি ভাষ্য মতে, ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, সংখ্যাটি গতকাল ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে। এদিকে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের বিজ্ঞানীরা গত বুধবার জানান, উহান শহরে কমপক্ষে চার হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছে। আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সংকট সামলাতে সরকারের ভূমিকাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

সুইস স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডেপুটি পরিচালক অ্যান্টনি ফ্লাহল্ট বলেন, ‘সার্স মহামারির সময়ের তুলনায় এবার চীন সরকার আরো স্বচ্ছভাবে এবং আরো দ্রুত সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে।’ ২০০৩ সালে সার্স মহামারির প্রথম দিকে চীন সরকার দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে তথ্য গোপন করতে বেশি ব্যস্ত ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) সঙ্গে অসহযোগিতা করার মতো পদক্ষেপও নিয়েছিল চীনের প্রশাসন। এবার সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি চায় না চীন, এমনটাই বলেন দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের বিজ্ঞানী ঝং নানশান।

এবারের পরিস্থিতিতে এখনই বিশ্বব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেনি ডাব্লিউএইচও। আরো তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তী মিটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বলা দরকার, জাপান, ম্যাকাউ, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। সূত্র : এএফপি, সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা