kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

দেশে চলছে অভিশংসনপ্রক্রিয়া

দাভোসে খোশমেজাজে ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দাভোসে খোশমেজাজে ট্রাম্প

অভিশংসিত হওয়ার আশঙ্কা নেই বললেই চলে, তবু চলমান বিচারপ্রক্রিয়া যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এক কটু বাস্তবতা, তা বলাই বাহুল্য। ট্রাম্প নিজে অবশ্য বেশ উচ্ছলতা দেখাচ্ছেন। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডাব্লিউইএফ) সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে তাঁর সেই উচ্ছলতায় একটুও ভাটা পড়েনি।

অভিশংসনপ্রক্রিয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিধাহীন জবাব, ‘ওটা স্রেফ ধাপ্পাবাজি।’ তিনি আরো বলেন, ‘ডাইনি খোঁজার এ অভিযান কয়েক বছর ধরেই চলছে। আর সত্যি বলতে কি, বিষয়টা অসম্মানজনক।’

মার্কিন কংগ্রেসে চলমান অভিশংসনপ্রক্রিয়ার মতো পরিবেশবাদীদের আশঙ্কাও ট্রাম্পের কাছে ‘ধাপ্পাবাজি’ ছাড়া আর কিছু নয়। তাই বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ে যখন তাঁর আশঙ্কার কথা জানতে চাওয়া হয়, তখন তাঁর উত্তর ছিল, ‘বছরের পর বছর ধরে যারা ধ্বংসের তত্ত্বকথা বলে আসছে, তাদের এবং তাদের ধ্বংসযজ্ঞের পূর্বাভাস আমাদের অবশ্যই বর্জন করতে হবে।’ পরিবেশবিজ্ঞানীদের আতঙ্ক-জাগানীয়া ভবিষ্যদ্বাণীর বিপরীতে তাঁর বক্তব্য, ‘আতঙ্ক আর সন্দেহের চিন্তা করা মোটেই ভালো নয়। এখন ভীষণ প্রত্যাশা, উল্লাস, আশাবাদ আর কাজের সময়।’

ট্রাম্পের হালকা চালের কথাবার্তায় মার্কিন ভূখণ্ডে তাঁর সমর্থকরা যেভাবে কানফাটা হাততালিতে চারপাশ সরগরম করে তোলে, তেমনটা হয়নি বটে; তবে দাভোসের দর্শকরা শান্ত ভঙ্গির হাততালিতে তাঁর বক্তব্যকে স্বাগত জানাতে ভোলেনি। উৎসাহিত ট্রাম্প আরো বলেন, ‘আমেরিকা সমৃদ্ধ হচ্ছে, আমেরিকা বাড়ছে, আমেরিকা জিতছে। এমনটা আগে কখনো ঘটেনি।’

ট্রাম্পের সমালোচকরা অবশ্য পরিস্থিতিটা অন্যভাবে দেখছেন। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিত্জ বলেন, ‘কোনো সভায় ভীষণ জনগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির উদ্দেশে এত দুর্বল হাততালি আমি আগে কখনো দেখিনি। (ট্রাম্পকে) তারা দুয়ো দিতে চায়নি, সেটা স্পষ্টই বোঝা গেছে। দাভোসের উদ্দীপনার সঙ্গে সেটা একেবারেই মেলেনি। দাভোসের সুরে ট্রাম্পের সুর যে একেবারেই মেলেনি, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।’

সম্মেলনে ট্রাম্পের স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমগুলো আরো জানায়, ধনাঢ্য ব্যবসায়ী থেকে অনেকটা হঠাৎ রাজনীতিক বনে যাওয়া ট্রাম্প ছিলেন সম্মেলনে হাজির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া পরিবেশবাদী সুইডিশ কিশোরী গ্রেতা থুনবারির উপস্থিতিও ট্রাম্পের সেই আকর্ষণকে ম্লান করতে পারেনি—এমন মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলন হলেও তাতে জলবায়ুবিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সেশন রাখা হয়েছে এবং সে উপলক্ষেই সেখানে উপস্থিত ছিল গ্রেতা। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা