kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ট্রাম্পের অভিশংসন

বিচারের আগেই শুরু বাগযুদ্ধ

‘ডেমোক্র্যাটরা যেসব অভিযোগ তুলেছেন, ধরে নিচ্ছি সেগুলো সবই সত্য। কিন্তু এসব অভিশংসনযোগ্য অপরাধ নয়’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিচারের আগেই শুরু বাগযুদ্ধ

মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসনের বিচার শুরু হবে আজ মঙ্গলবার থেকে। তবে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই ট্রাম্পের সমর্থক এবং অভিশংসনের সমর্থকদের কথার লড়াই জমে উঠেছে। যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি এতটাই জোরালো যে স্পষ্ট বোঝা যায়, আগামী কয়েক সপ্তাহ জমজমাট ও উত্তপ্ত সময় কাটবে সিনেটের ভেতরে ও বাইরে। আর ফল? সে তো নির্ধারিত। ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত হাউস অব কমনসে যেমন ট্রাম্পের অভিশংসন ঠেকানো যায়নি, তেমনি রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটেও প্রেসিডেন্টের অভিশংসন সম্ভব হবে না।

আজ থেকে সিনেটে শুরু হচ্ছে ট্রাম্পের অভিশংসনের জমজমাট অধ্যায়। সপ্তাহে ছয় দিন, ছয় ঘণ্টা করে অন্তত দুই সপ্তাহ দলীয় রাজনীতির ভারে ন্যুব্জ এই নাটকের অভিনয় চলবে। রিপাবলিকান সিনেটর জন করনিন সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বড় কঠিন সময়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছি আমরা।’ সিনেটে অভিযোগ মোকাবেলায় এরই মধ্যে আইনি দল তৈরি করেছেন ট্রাম্প। সেই দলের নতুন সংযোজন খ্যাতনামা অ্যাটর্নি অ্যালান ডেরশোউইচ। রবিবার তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটরা যেসব অভিযোগ তুলেছেন, ধরে নিচ্ছি সেগুলো সবই সত্য। কিন্তু এসব অভিশংসনযোগ্য অপরাধ নয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আইনবিষয়ক অধ্যাপক ইমেরিটাস বলেন, ‘ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে হাউস ট্রাম্পকে অভিশংসন করেছে। সংবিধানে অভিশংসনের জন্য এমন কোনো ধারা নেই। একই কথা কংগ্রেসের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগের ক্ষেত্রেও সত্য।’ তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই অভিশংসন দেশের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের জন্য ‘ভয়াবহতম দুঃস্বপ্ন হিসেবে বিবেচিত হতো।’

তবে ডেরশোউইচের এই দাবি নাকচ করে দেন সিনেটে ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষে আইনি লড়াই করার নির্ধারিত দলের প্রধান ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেসম্যান অ্যাডাম স্কিফ। তিনি বলেন, ‘আপনার বিরুদ্ধে যখন খুব জোরালো যুক্তি থাকে যা আপনি আর খণ্ডন করতে পারছেন না, তখন আপনি এসব কথা বলবেন।’ হাউসে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ তোলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়া। ট্রাম্প নিজে অভিযোগ দুটি উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি চায় সিনেট বসামাত্র অভিযোগ দুটি খারিজ করে দেওয়া হোক। তবে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, বিষয়টি পত্রপাঠ বিদায় করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাঁদের নেই। অর্থাৎ বিচার হবে। তবে কত দিন ধরে এ প্রক্রিয়া চলবে এবং সাক্ষী ডাকা হবে কি না সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত হয়নি।

ডেরশোউইচ বলেন, সাক্ষী ডাকা হলে পুরো প্রক্রিয়া অনর্থক দীর্ঘায়িত হবে। ডেমোক্র্যাটরা সাক্ষী হিসেবে সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে ডাকতে চাইবে। প্রেসিডেন্ট যেহেতু এমন কিছু চান না, কাজেই তিনি তাঁর নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিষয়টি আটকাবেন। স্বাভাবিকভাবেই এটি তখন আদালত পর্যন্ত গড়াবে। ফলে সময় কয়েক মাস লাগবে না বছর—তা সুনির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।

ট্রাম্প অবশ্য রিপাবলিকান পার্টির প্রতি তাঁর অভিশংসন ইস্যুতে অত্যন্ত আস্থাশীল। তিনি গত রবিবার এক টুইটে বলেছেন, ‘এখনকার মতো ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী রিপাবলিকান পার্টি আমি আর কখনোই দেখিনি। ধন্যবাদ।’ সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য