kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

হ্যারি-মেগানের রাজকীয় উপাধি প্রত্যাহার

বন্ধ হলো সরকারি কোষাগারের অর্থও

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হ্যারি-মেগানের রাজকীয় উপাধি প্রত্যাহার

ব্রিটিশ রাজপরিবার ছাড়ার প্রক্রিয়ায় আরেকটু এগিয়ে গেলেন প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী মেগান মার্কেল। এক বিবৃতিতে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাঁর নাতি ও নাতবউয়ের রাজকীয় উপাধি (হার বা হিজ রয়াল হাইনেস—এইচআরএইচ) এবং সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ ব্যবহারের সুবিধা প্রত্যাহার করেছেন। আগামী বসন্ত থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এর মধ্য দিয়ে এই দম্পতি তাঁদের নতুন জীবনে পথচলা শুরু করতে পারবেন; যদিও এখনো বহু জটিল হিসাব বাকি রয়েছে।

বাকিংহাম প্রাসাদ গত শনিবার জানায়, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ব্যক্তিগত পর্যায়ে গভীর আলোচনার পর তাঁরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের পর প্রিন্স হ্যারি ও তাঁর আমেরিকান টিভি অভিনেত্রী স্ত্রীকে আর ‘রয়াল হাইনেস’ উপাধিতে সম্বোধন করতে হবে না। ১৯৯৬ সালে প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর প্রিন্সেস ডায়ানার নামের সামনে থেকেও এই রাজকীয় উপাধি প্রত্যাহার করা হয়।

৯৩ বছর বয়সী রানি গত শনিবার দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে টানা আলোচনার পর এবং সাম্প্রতিক কথাবার্তার প্রেক্ষাপটে আমি আমার নাতি ও তার পরিবারের জন্য একটি গঠনমূলক ও সুবিধাজনক এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে বের করতে পারব বলে আশাবাদী।’ তিনি আরো বলেন, ‘দুই বছর ধরে তারা যে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ছিল তার জন্যই তারা এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। আরো স্বাধীন জীবনের জন্য আমরা তাদের সমর্থন জুগিয়ে যাব। তারা যে চ্যালেঞ্জ নিয়েছে, তার প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল।’

মূলত গত দুই বছরে গণমাধ্যমের সঙ্গে হ্যারি ও মেগানের যে দ্বন্দ্ব সে প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এ কথা বলেন রানি। বিবৃতিতে মেগানের প্রশংসা করে রানি আরো বলেন, ‘আমি বিশেষ করে মেগানকে নিয়ে গর্বিত। কারণ সে খুব অল্প সময়ের মধ্যে পরিবারের সঙ্গে মিশে যেতে পেরেছে। আমি চাই এই দম্পতি সুখী ও শান্তিপূর্ণ নতুন জীবনে প্রবেশ করুক।’ এক পৃথক বিবৃতিতে বাকিংহাম প্রাসাদ জানায়, ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স এখন থেকে আর তাঁরা এইচআরএইচ উপাধি ব্যবহার করবেন না। তাঁরা আর রাজপরিবারের কার্যকর সদস্য থাকছেন না। নতুন ব্যবস্থায় তাঁরা তাঁদের রাজদায়িত্ব থেকে সরে যাবেন। সামরিক বাহিনীর কোনো বৈঠকে তাঁরা আর উপস্থিত থাকবেন না। রাজদায়িত্ব পালনের জন্য তাঁরা আর সরকারের তরফ থেকে কোনো আর্থিক সুবিধাও পাবেন না।

কয়েক মাস আগে হ্যারি ও মেগান তাঁদের থাকার জন্য উইন্ডসর ক্যাসেলের পাশে একটি প্রাসাদ সংস্কার করিয়ে নেন। এতে প্রায় ৩১ লাখ ডলার খরচ হয়। এই অর্থ তারা পরিশোধ করে দেবেন বলে জানা গেছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম অবশ্য বলছে, হ্যারি দম্পতির রাজপরিবার ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টির ব্যবস্থা করা হলো অনেকটা শাস্তি দেওয়ার মতো করেই। রানি শক্ত হাতে বিষয়টি সম্পন্ন করতে চাইছেন। ডেইলি টেলিগ্রাফ জানায়, মেক্সিটকে (হ্যারি-মেগানের এক্সিট বা বের হয়ে যাওয়া) সম্ভব সবচেয়ে কঠোর প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা